১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত
জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না : ডা. শফিকুর রহমান এমপি
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ ২০ জুন শনিবার দুপুর ২টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
এছাড়া সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জনাব মোবারক হোসাইন, মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা ইমরান হোসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আযম মো. আবু বকর এমপি, যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূল এমপি, মেহেরপুর জেলা আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন খান এমপি, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির খুলনা মহানগরী সভাপতি অধ্যক্ষ এসএএম সাইফুদ্দোহা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরী সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব আবু বক্কর সিদ্দিক মোড়ল। এ সময় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্যগণ হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশের সর্বস্তরের মানুষ—যুবক, শিশু, নারী ও প্রবীণ—একসাথে দাঁড়িয়েছেন। এই জনজাগরণকে আর থামানো যাবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে বলছি, আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণকে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
আওয়ামী লীগের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনকে সরকার দমন করার চেষ্টা করেছিল, নির্বিচারে মানুষ খুন ও পঙ্গু করা হয়েছিল। অবশেষে জনস্রোতের মুখে তৎকালীন বেহায়া ও নির্লজ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। তিনি মানুষ খুন, পঙ্গু করা, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ব্যাংক-বিমা-শেয়ারবাজার লুণ্ঠন এবং অর্থ পাচার করেছেন, এবং শেষে তার 'সেবাদাসী' হিসেবে কাজ করা প্রভুদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।
খুলনাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, খুলনাবাসী, আমরা আপনাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিলাম। আপনারা যে রায় দিয়েছেন, আমরা সেই রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও কৌশলের মাধ্যমে ভোট কেড়ে নেওয়া হলেও আমরা পিছিয়ে যাব না। সংসদে যতটুকু শক্তি আছে, তা নিয়েই সিংহের মতো লড়াই করব, ইনশাআল্লাহ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানি, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, বলেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু কেউ যেন মনে না করেন যে আমরা অন্যায়কে মেনে নিয়েছি। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি না হোক, সে কারণেই আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। কিন্তু অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা আমাদের শিখিয়েছেন, দেশের প্রয়োজনে হাসিমুখে কষ্ট ও সংগ্রামকে বরণ করে নিতে হয়। বাংলার ইতিহাসও সেই ত্যাগ ও সাহসিকতার শিক্ষা দেয়। জনগণ প্রয়োজনে সেই আদর্শ ধারণ করেই এগিয়ে যাবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছে নতি স্বীকার করা হয়, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাই না। একইভাবে, আমাদের দেশেও যেন কোনো ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ না হয়, সেটাও আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক প্রতিবেশীর সম্পর্ক চাই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ এলে, জনগণ তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মনে হচ্ছে দেশকে একটি নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। এটি হবে একটি স্বাধীন, মর্যাদাবান, শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। আমি বাংলাদেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—দেশের কল্যাণে প্রস্তুত হোন। শুধু তরুণরাই নয়, জাতির প্রয়োজনে প্রবীণরাও নিজেদের যুবকের মতো প্রস্তুত রেখেছেন। অন্যায়, শোষণ, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে লড়াই করতে হবে। সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট চেয়েছিলাম বৈষম্যমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক নীতি-নৈতিকতাভিত্তিক বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, প্রকৃত ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আমরা কখনও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি অবিচার, নির্যাতন বা অসম্মানের পক্ষে নই।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেশের নেতৃত্বে আসবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলে জনগণের সামনে এখনও অনেক জাতীয় সমস্যা রয়ে গেছে। আজও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা প্রশ্নে জনগণের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের ফল নয়। এটি বহু মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাই জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্কার কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য নয়; বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার জন্য। আমরা চাই— ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচার জন্ম নিতে না পারে; রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হয়; বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে। আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকার যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।
ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও বিতর্ক ছিল। আমাদের বিশ্বাস, জনগণের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও অনেক জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাননি। সুতরাং আমরা সেইসব অনিয়ম ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ার সমালোচনা করি এবং জনগণের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নিশ্চিত করার দাবি জানাই। আমরা বলতে চাই, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। তাই জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ কারও নেই।
তিনি বলেন, খুলনা অঞ্চলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু, মুসলমান এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের শক্তি তার বহুত্ববাদী ঐতিহ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির মধ্যে নিহিত। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করার যেকোনো প্রচেষ্টা জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর।
এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুই বছর পরও সেই আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন তিনটি বড় লড়াই রয়েছে- রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমরা রাজপথে যেমন ছিলাম, ভবিষ্যতেও তেমনি থাকব।
সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে কিছু মৌলিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কারের মধ্যে ছিল— প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব হ্রাস; জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন; উচ্চকক্ষে পিআরসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যকর করা। গণভোটে জনগণের বিপুল সমর্থন এই সংস্কারগুলোর প্রতি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন। গণভোটে যেসব সংস্কার নিয়ে জনগণের সমর্থন ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনীহা ও বিলম্ব জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য মনে করে, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে এবং বাইরে-উভয় ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম। জনগণের প্রত্যাশা হলো—তাদের মতামত, অধিকার এবং উন্নয়নের দাবি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ রয়েছে। খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক অস্থিরতার বিভিন্ন ঘটনা মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করছে। বাগেরহাট থেকে সমাবেশে আসার পথে কিছু ভাইয়ের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। দুজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই সরকার জনগণের সরকার নয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারের দিকে ধাবিত হয়েছে। গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে।
নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত করতে হবে
-অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, তারাও দেশে শিক্ষাবিস্তারের মহান পেশায় নিয়োজিত। তারাও দেশকে মূর্খতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে দেশকে আলোকিত করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কাজেই মানুষ গড়ার কারিগর নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার ন্যায্য দাবি সরকারের অবিলম্বে মেনে নেয়া উচিত।
তিনি আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বিকালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় নন-এমপিওভুক্ত ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠককালে সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন ভূইয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক জনাব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উমর ফারুক, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক. কোরবান আলী ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম, নন-এমপিওভুক্ত ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ দবিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ নাজমুস শাহাদাত আযাদী, সাংগঠনিক সমন্বয়ক মনিমুল হক, যুগ্ম সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ ইমরান বিন সোলায়মান, সমন্বয়ক মোবারক হোসেন, আবতাবুল আলম, আ: সালাম, জাহিদ হোসেন, শাহ মোঃ মিজানুল হক মামুন, অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন, সুপার ফরহাদ হোসেন বাবুল, মোঃ হাবিব, এনামুল হক, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। শাহ মোঃ মিজানুর রহমান মামুনের কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বৈঠকের কাজ শুরু হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভায় নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর শিক্ষা বিষয়ক সম্পদকগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো এবং প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, শিক্ষাকে যেভাবে গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিলো আজ পর্যন্ত কোন সরকারই সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য দূর করতে হলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করতে হবে। এ জন্য শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে গোটা বাজেটের ৬ শতাংশ করা প্রয়োজন। নন-এমপিওভুক্ত ঐক্য পরিষদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান।
নন-এমপিওভুক্ত ঐক্য পরিষদের শিক্ষকদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো সরকার যাতে মেনে নেয় সে ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করার জন্য তিনি সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দুনিয়ার জীবনের সুখ-শান্তির জন্য আমরা সব কিছুই করছি। কিন্তু আখিরাতে মুক্তির জন্য আমরা তেমন কিছুই করছি না। আমরা যাতে দুনিয়া ও আখিরাতে সুখ-শান্তিতে থাকতে পারি সেজন্য ইসলামী শিক্ষার প্রতি সবচাইতে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। আল্লাহর বিধান মত জীবন পরিচালনার জন্য যে শিক্ষা দরকার সে শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
৫ দফা দাবিতে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও মিছিল জুলাই সনদ এবং জুলাই ঘোষণার আইনি ভিত্তি দিয়েই আগামী নির্বাচন হতে হবে
-অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সময় হচ্ছে জুলাই সনদ এবং জুলাই ঘোষণার আইনি ভিত্তি দেওয়ার উপযুক্ত সময়। তিনি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনি সবাইকে ডাকুন, কনস্টিটিউশনাল অর্ডারের মাধ্যমে অথবা একটা রেফারেন্ডামের মাধ্যমে এখনো সময় আছে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে নির্বাচন করুন। তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ বলছেন যে; এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না। আমরা দেখছি অনেক সাংবিধানিক মেজর ইস্যুতে যে ভিন্নমতগুলো রয়েছে, আমরা বলেছি ঐকমত্য কমিশনও বলেছে দু’বারের অধিক কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। জুডিশিয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী চাইলেও হবে না। এই সংস্কার যদি এখন না হয়, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য যদি ঠিক করা না হয়, আর তা যদি নির্বাচনের আগে না হয়, বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোতে যদি আবার নির্বাচন হয়, তাহলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচন হলে আরেকটি হাসিনার জন্ম হবে। বাংলার মানুষ আর ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে দেবে না।
১৮ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের উদ্দেশে আরও বলেন, আপনারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মেইনটেইন করতে পারছেন না। তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কীভাবে? তাই আমাদের দাবি—আপনারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিন। সাংবিধানিক অর্ডার জারি করুন। গণভোট দিন। ফ্যাসিবাদের কার্যক্রম স্থগিত করুন। এবং আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ‘নির্বাচনের আগে দৃশ্যমান বিচার করবেন।’ আমাদেরও দাবি নির্বাচনের আগেই তা দৃশ্যমান করতে হবে।
তিনি সরকারের উদ্দেশে আরও বলেন, আর্টিকেল ৭-এর ভিত্তিতেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে তার আলোকে নির্বাচন দিতে হবে। এখন যদি দুই–তিন মাস আলোচনার পর একটি দল বলে যে এটা পরে হবে, তাহলে কেন এত পরিশ্রম করালেন? সেজন্যই বলছি আমাদের আন্দোলন রাজনীতির অংশ। আমাদের রাজনীতি জনগণের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য। আমরা আলোচনার টেবিলে নিষ্পত্তির জন্য আশাবাদী। আমরা নিরাশ নই।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি পিআর মানতে হবে। সার্ভেতে ৭০ ভাগ মানুষ পিআরের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। ঐকমত্য কমিশনে ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে রয়েছে। একটি দলের কেউ কেউ বলছেন, পিআর খায় না মাথায় দেয়। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এটা বলতে পারে না। তাই পিআর বাস্তবায়নের জন্য গণভোট দিন। রায় পিআরের পক্ষে আসে নাকি বিপক্ষে আসে যাচাই করুন। জনগণ যদি পিআর মানে তাহলে আপনাদেরও মানতে হবে। আর জনগণের রায় যদি পিআরের বিপক্ষে যায় তাহলে আমরা জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবো। কিন্তু তারা তো গণভোটকে ভয় পাচ্ছে। পিআরের মধ্য দিয়ে সকলের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যদি পেশীশক্তি ও কালো টাকামুক্ত কোয়ালিটিপূর্ণ পার্লামেন্ট হয়, সরকার গঠন হয়, তাহলে কোনো দলের পক্ষে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই, তাই তারা পিআর ঠেকাতে চায়। তিনি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আজাদ। উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসাইন, অ্যাডভোকেট কামাল হোসাইন, ড. আবদুল মান্নান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু হয়ে জিপিও মোড়, পল্টন মোড় ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার জনতা অংশ নেয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত সাংগঠনিক বৈঠক ও ইফতার মাহফিল থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহীনুর আলম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান https://t.co/4oERdJVhJq
ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতো একটি সুশৃঙ্খল ছাত্র সংগঠনের ইফতার মাহফিলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারে আমরা হতবাক।
সিরাজগঞ্জ জেলা শিবিরের একটি ইফতার মাহফিলে অভিযান চালিয়ে জেলা জামায়াত আমীর, জেলা শিবির সভাপতিসহ ১৫ জন ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের ২০২২-২৩ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মোল্লা মুহাম্মাদ খালিদ সাইফুল্লাহ ভাই এবং সভাপতি পরিষদ হিসেবে মুহাম্মাদ মাহমুদুল হাসান সাগর ও মুহাম্মাদ কামালুদ্দীন ভাই নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দদের অভিনন্দন ও মুবারকবাদ জানাচ্ছি।
অব্যক্ত যা ছিল- তাতেই লুকানো আছে শত কথা। হয়তো তুমি বুঝনি, হয়তো আমিও বলিনি। এক জীবনে সব কথা বলা যায় না, বলা হয়ও না।
না বলার মাঝেও তৃপ্তি আছে ..
সবাই চেহারা পড়তে পারেনা,
যে পারে সে হৃদয়েই থাকে।