বডি ক্যামেরা - জনস্বার্থের উপকরণ, না রাজনৈতিক হাতিয়ার?
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গায়ে বডি ক্যামেরা লাগানো হয় মূলত জনস্বার্থ রক্ষার জন্য। এর উদ্দেশ্য দায়িত্ব পালনের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অপব্যবহার রোধ করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে সহায়তা করা এবং জনগণের আস্থা বাড়ানো। অর্থাৎ এটি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক পক্ষের সুবিধা কিংবা অসুবিধা তৈরি করার হাতিয়ার হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখি? বড় অপরাধ, ক্ষমতাবানদের সংশ্লিষ্টতা বা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বহু ঘটনার বডি ক্যামেরার ফুটেজ কখনোই জনসমক্ষে আসে না। জনগণ জানতে চায় এমন তথ্যগুলো অদৃশ্যই থেকে যায়। অথচ কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু ভিডিও সাংবাদিকের হাতে পৌঁছে যায় এবং তা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে যৌক্তিকতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে। কোনো সরকারি বাহিনীর গোপন বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও যাচাই ছাড়াই, প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা না করে, প্রকাশ্যে পোস্ট করা কি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য? এটি কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, নাকি জনমত প্রভাবিত করার একটি কৌশল হয়ে দাঁড়ায়?
এই প্রশ্ন আরও গুরুতর হয় যখন ঠিক নির্বাচনের আগে এমন ভিডিও ভাইরাল হয়, যা সরাসরি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে যায়। এটি কি নিছক কাকতাল, নাকি পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা? একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী যখন এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয় বা যুক্ত বলে মনে হয়, তখন তা ব্যক্তি বা দলের সীমা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে ধরে।
নির্বাচনী আচরণবিধি কি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য, নাকি সরকারের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য? যদি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায় শুধু রাজনীতিবিদদের ওপর পড়ে, অথচ রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে পরিবেশ প্রভাবিত করা উপেক্ষিত থাকে, তাহলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে, সেই প্রশ্ন এড়ানো যায় না।
আজ সেনাবাহিনীর বডি ক্যামেরা থেকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজ ঘিরে মূলত এই প্রশ্নগুলোই সামনে আসে। যতটুকু কথাবার্তা শুনেছি তাতে অবশ্যই তিনি অন্যায় করেছেন । যেহেতু তিনি কোন অপরাধী নন তাই এই আলাপ গোপন রাখা সেনাবাহিনীর নৈতিক দায়িত্ব । বডি ক্যামেরা যদি সত্যিই জনস্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তবে এর ব্যবহার, সংরক্ষণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা, জবাবদিহি এবং একক মানদণ্ড থাকা জরুরি। নইলে এটি নিরাপত্তার উপকরণ নয়, বরং রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা মুখের কথা নয়, আচরণেই তার প্রমাণ দিতে হয়। আর নির্বাচন সামনে থাকলে সেই দায় আরও বেড়ে যায়।
রওশন হক
২/৩/২৬
নিউইয়র্ক
#PoliticalViolence
#BangladeshPolitics
#গনভোট_হ্যাঁ_বলুন
#democracy
#hilightseveryonefollowers