রাজ্যের দিকে দিকে সরকারি কর্মসূচি 'আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান' এখন 'আমাদের পাড়া থেকে তৃণমূল তাড়া' কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।
এবারের ঘটনা কাকদ্বীপের। সেখানে 'আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান' কর্মসূচি যে এলাকায় চলছিল সেখানে কাকদ্বীপের মহিলা ব্লক তৃণমূল প্রেসিডেন্ট, জেলা পরিষদ সদস্যা রীনা দাসকে গ্রামবাসীরা ঢুকতেই দিল না শিবিরে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখানকার বিডিও এবং পুলিশ আধিকারিকরা রীনা দাস কে এলাকা ত্যাগ করতে বলেন, তিনি প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে এলাকা ত্যাগ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। মানুষ এখন আর চুপচাপ থাকছেন না, তাই দিকে দিকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। বাংলার মানুষ জেগে উঠেছেন, এই জনগণই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তার সরকারকে অপশাসনের হাত থেকে মুক্তি পেতে আর ক'দিন পর বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলবে।
আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান - বিক্ষোভের ভয়ে দৌড়ে বিডিও সাহেবের অন্তর্ধান !!!
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের নারমা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাগুরিয়ার রাস্তার বেহাল দশায় মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। সেখানকার রাস্তা দিয়ে মানুষের যাতায়াত করাই দায়, জীবন হাতে নিয়ে চলতে হচ্ছে এমন অবস্থা। খারাপ রাস্তার জন্য গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্স তো দূরের কথা একটা গাড়ি পর্যন্ত ঢুকতে পারে না। ফলে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে ডুলিতে করে নিয়ে যেতে হয়। প্রসূতি মায়েদের নিয়ে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়তে হয়। গ্রামবাসীরা যত বার দাবি জানিয়েছেন ততবার সান্ত্বনা বাক্য ছাড়া তাদের কিছুই জোটেনি।
এমতাবস্থায় সেখানে প্রশাসন 'আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান'-এর কর্মসূচির শিবির আয়োজন করলে স্থানীয় প্রায় শতাধিক মহিলা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন রাস্তার সংস্কার করা হয়নি তার জবাব চেয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেই সময় সেখানে বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধান ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন, উত্তেজিত মহিলারা তাদেরকে সেখানেই তালা বন্ধ করে আটকে রাখেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘন্টা দেড়েক পর বিডিও পঞ্চায়েত সদস্য সহ অন্যান্যদের উদ্ধার করে। বিডিও বাইরে আসলে তাকে বিক্ষোভরত মহিলারা ঘিরে ধরে আবার বিক্ষোভ দেখাতে থাকলে পুলিশের সাহায্য নিয়ে ঘেরাও হওয়ার ভয়ে দৌড়ে 'আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান শিবির' থেকে পালাতে থাকেন, পেছন পেছন বিক্ষোভকারীরাও দৌড়াতে থাকেন। শেষে বিডিও ভয়ে গাড়িতে করে এলাকা ছাড়েন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্যের শহর থেকে গ্রাম রাজ্যের হাল বেহাল। তার ১০০% কাজ হয়ে যাওয়ার দাবী আসলে পুরোপুরি ভাঁওতা, সেটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বুঝে গিয়েছেন, তাই দিকে দিকে এই রকম স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ হচ্ছে। ভোটের মুখের চমক 'আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানের' থেকে 'আমাদের পাড়া, তৃণমূল তাড়া' কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।