কিছু মানুষের জীবনের গল্প কোনোদিন কোনো উপন্যাসে লেখা হয় না। আমাদের দেশের প্রবাসীরা হলেন ঠিক সেই রকম একদল মানুষ। যাদের পাঠানো রক্ত পানি করা রেমিট্যান্সে দেশের চাকা ঘোরে, অথচ তাদের নিজেদের জীবনটা কেটে যায় অন্তহীন এক ত্যাগের চাদরে ঢাকা পড়ে।
পরদেশের এক চিলতে চারকোণা ঘরে যখন তীব্র জ্বর আসে, তখন কপা��ে হাত বুলিয়ে দেওয়ার কেউ থাকে না। সেই কঠিন অসুখ আর বুকফাটা একাকীত্ব লুকিয়ে তারা দেশের বাড়ির প্রিয় মানুষগুলোর সাথে ফোনে হাসিমুখে কথা বলেন। সবাইকে ভালো রাখার কী এক অদ্ভুত আর অসম লড়াই!
বছরের পর বছর কত উৎসব আসে, অথচ তাদের দিন কাটে চোখের পানিতে, দূর থেকে ভিডিও কলে প্রিয়জনদের উদযাপন দেখে। নিজের আদরের সন্তান কখন যে বড় হয়ে গেল, চোখের সামনে তার বেড়ে ওঠাটাই দেখা হলো না। এমনকি শেষ সময়ে জন্মদাতা বাবা-মায়ের কপালে হাত রেখে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগটুকুও অনেকের ভাগ্যে জোটে না। দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি আর শত অবহেলা সয়ে তারা পরদেশকে আলোয় আলোকময় করে তোলেন, অথচ দিনশেষে নিজের জন্য একটুখানি সুখও তারা জমা রাখতে পারেন না।
যে দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মহিমা এতটা অতলান্ত, সেই প্রিয় স্বদেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আর নবপ্রভাতের উদয় আসবেই। সুদূর পরবাসে জমা হওয়া তাঁদের সেই নীরব ত্যাগের সহযাত্রী হয়ে আমরা আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—হাতে হাত রেখে, পরম মমতায় একসাথে গড়ে তুলব আমাদের সেই বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার দেশ গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লিখেছেন মুহতারাম আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান
যদি আপনাকে বলা হয়, আপনার একটি দু’আ কবুল করা হবে, তখন আপনি আল্লাহর কাছে কী চাবেন?
ঠিক এরকমই একটি প্রশ্ন একবার আল্লাহর রাসুলকে (ﷺ) তার চাচা আব্বাস (রা.) ও করেছিলেন। অনুরোধ করেছিলেন, তাকে য��ন এমন একটি দু’আ শেখানো হয়, যেই একটি দু’আই এত ব্যাপক অর্থপূর্ন হবে যে, সেটা যদি কবুল হয় তাহলে আর কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হবে না। রাসুল (ﷺ) তখন তাকে যে দু’আটি শিখালেন, তা হলো,
اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ الْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ’আফিয়াহ’ চাই। দ���নিয়া এবং আখিরাতে।
কী অর্থ ‘আফিয়ার’?
— আফিয়াহ অর্থ দু:খ কষ্ট থেকে মুক্ত থাকা।
— আপনি আফিয়াহতে আছেন, যদি আপনি সুস্থ থাকেন।
— আপনি আফিয়াহতে আছেন, যদি প্রয়োজন মাফিক রিযিক থাকে আপনার। যদি জীবনকে আপনি উপভোগ করতে পারেন, যদি আপনার সন্তানেরা সুরক্ষিত থাকে সবধরনের অনিষ্টতা থেকে, আপনি আফিয়াহতে আছেন।
— যদি আপনাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদি দেয়া না হয় কোন শাস্তি বা আযাব, আপনি আফিয়াহতে আছেন।
সুবহানাল্লাহ! কত সংক্ষিপ্ত দু’আ, অথচ কী ব্যপক অর্থবোধক। আপনি আফিয়াহ চাচ্ছেন, তার মানে আপনি আল্লাহকে বলছেন, তিনি যেন আপনাকে বাঁচিয়ে রাখেন যে কোন যন্ত্রনা, কষ্ট, অসচ্ছলতা, ক্ষতি ও পরিক্ষা থেকে। দুনিয়া আখিরাতের যাবতীয় মুসিবত থেকে। আব্বাস (রা.)- কে যখন রাসুল (ﷺ) দু’আটির কথা বললেন, তিনি প্রথমে উত্তর দিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এত ছোট দু’আ, আমি তো আরও বড় কিছু চেয়েছিলাম।
রাসুল (ﷺ) জবাব দিয়েছিলেন, প্রিয় চাচা! আল্লাহর কাছে আফিয়াহ চান। দেয়ার মত আফিয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
তথ্যসূত্রঃ সুনান তিরমিযি, ২৬৭৫ ও রিয়াদুস সালেহীন।
লেখা : রিজওয়ানুল কবির
#সীরাহ
"একটি হলেও বৃক্ষরোপণ করবো জনে জনে
সবুজ দেশের সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে।"
আসন্ন বিশ্ব পরিবেশ দিব�� উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার উদ্যোগে ‘বৃক্ষ র্যালি’ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজকে রাজশাহী আমীরে জামায়াত সৌজন্য সাক্ষাৎ এর জন্য যায় শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের মাদ্রাসায়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে দিক, আমীন। Cltd
আগামীকাল ঐতি���াসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কুরআন সন্ধ্যা আয়োজন করেছে ঢাবি শিবির।
তেলাওয়াত করবেন বরেণ্য ক্বারী শায়েখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী ও অন্যান্য ক্বারীবৃন্দ।
ফ্যাসিবাদী আমলে এই বটতলায় কুরআন তেলাওয়াত করার কারণে শিক্ষার্থীদের শো-কজ করেছিলো ভিসি মাকসুদ কামালের প্রশাসন।
আগামীকাল কুরআন সুরে বটতলার আকাশ-বাতাস মুখরিত হবে, ইনশা��ল্লাহ। আপনারাও শরিক হোন। জালেমের জুলুমের বিরুদ্ধে কুরআন তেলাওয়াতই আমাদের সাংস্কৃতিক জেহাদ।
- রায়হান উদ্দিন
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন
ইউসুফিয়া আলিম মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ, মাওলানা এ টি এম ইমদাদুল হক ভাই আজ ভোর সাড়ে চারটায় মাবুদের ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন।
মরহুমের জানাজা জোহর বাদ ইউসুফিয়া মাদ্রাসা অনুষ্ঠিত হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা প্রিয় ভাইয়ের সকল গুনাহগুলো ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন, আমীন।।
আপনি হয়তো ��ুনেছেন — "বেশি বেশি ইস্তিগফার করো, রিজিক বাড়বে।"
কিন্তু মনে মনে প্রশ্ন জাগে — "ক্ষমা চাইলে টাকা আসবে কীভাবে? এর মধ্যে সম্পর্কটা কোথায়?"
এই প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন — কুরআনে। একজন নবীর মুখ দিয়ে। সেই নবী হলেন নূহ (আ.)।
নূহ (আ.)-এর দাওয়াতের কৌশল
নূহ (আ.) ৯৫০ বছর তাঁর জাতিকে দাওয়াত দিয়েছেন। দিনে, রাতে, প্রকাশ্যে, গোপনে — সব পথে চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু তিনি শুধু "আল্লাহকে বিশ্ব��স করো" বলেননি। তিনি একটা বিশেষ কথা বলেছিলেন — যেটা শুনলে অবাক লাগে।
তিনি বললেন, "ইস্তিগফার করো — তোমাদের আসমান থেকে বৃষ্টি আসবে, তোমাদের সম্পদ বাড়বে, তোমাদের সন্তান বাড়বে।"
এটা কোনো গল্প না। এটা কুরআনের আয়াত।
আল্লাহ বলেছেন —
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
উচ্চারণ: ফাকুলতুস তাগফিরূ রাব্বাকুম ইন্নাহু কানা গাফফারা। ইউরসিলিস সামাআ আলাইকুম মিদরারা। ওয়া ইউমদিদকুম বিআমওয়ালিও ওয়া বানীনা ওয়া ইয়াজআল লাকুম জান্নাতিও ওয়া ইয়াজআল লাকুম আনহারা।
"আমি বললাম, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও — নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোম��দের উপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি পাঠাবেন, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য বাগান তৈরি করবেন এবং নদী প্রবাহিত করবেন।"
(সূরা নূহ: ১০-১২)
✅ এই আয়াতে আল্লাহ একটা কাজের বিনিময়ে পাঁচটা জিনিস দেওয়ার কথা বলেছেন —
▪️এক — আকাশ থেকে বৃষ্টি।
▪️দু�� — সম্পদ বৃদ্ধি।
▪️তিন — সন্তান বৃদ্ধি।
▪️চার — বাগান অর্থাৎ শান্তিময় জীবন।
▪️পাঁচ — নদী অর্থাৎ রিজিকের প্রবাহ।
সেই একটা কাজ হলো — ইস্তিগফার।
ইস্তিগফার ও রিজিকের সম্পর্ক — আসলে কী ঘটে?
গুনাহ রিজিকের পথ বন্ধ করে দেয়। এটা শুধু ধর্মীয় কথা না — এটা আল্লাহর বিধান।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই মানুষ গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।"
(ইবনে মাজাহ: ৪০২২, হাসান)
গুনাহ একটা দেয়া���ের মতো — রিজিকের দরজা খোলা আছে, কিন্তু দেয়ালের কারণে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ইস্তিগফার সেই দেয়াল ভাঙে।
আর বৃষ্টির কথা যে আয়াতে এলো — সেটাও গভীর। বৃষ্টি মানে শুধু পানি না। বৃষ্টি মানে ফসল, বৃষ্টি মানে জীবন, বৃষ্টি মানে রিজিকের মূল উৎস। যখন আসমানের দরজা ক্ষমার কারণে খুলে যায় — রিজিকের দরজাও খুলে যায়।
দৈনিক ইস্তিগফারের আমল
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তিগফার করতেন��
(সহীহ বুখারি: ৬৩০৭)
তিনি যাঁর কোনো গুনাহ নেই — তিনি এত ইস্তিগফার করতেন। আমাদের কতটুকু করা উচিত — সেটা নিজেই ভাবুন।
��বচেয়ে সহজ ইস্তিগফার —
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার — সবচেয়ে উত্তম —
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার দাস। আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকারে আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনার নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি, আমার গুনাহও স্বীকার করছি। আমাকে ক্ষমা করুন — আপনি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই।
(সহীহ বুখারি: ৬৩০৬)
কখন পড়বেন?
সকালে ফজরের পর — কমপক্ষে ১০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ।
রাতে ঘুমানোর আগে — একবার সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার।
যেকোনো কাজের ফাঁকে — যানজটে, রান্নায়, হাঁটতে হাঁটতে।
✅ এক নজরে — আজকের শিক্ষা
১. নূহ (আ.) ইস্তিগফারকে রিজিকের চাবিকাঠি বলেছেন — সূরা নূহ: ১০-১২।
২. গুনাহ রিজিকের পথ বন্ধ করে, ইস্তিগফার সেই পথ খুলে দেয়।
৩. রাসূল (সা.) প্রতিদিন ৭০-১০০ বার ইস্তিগফার করতেন।
৪. সবচেয়ে সহজ আমল — আস্তাগফিরুল্লাহ, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়।
মনে রাখবেন!
ইস্তিগফার শুধু ক্ষমার দোয়া না — এটা রিজিকের দরজা খোলার চাবি। নূহ (আ.) ৯৫০ বছর মানুষকে এই একটা কথাই বলে গেছেন। আজ থেকে দিন শুরু করুন আস্তাগফিরুল্লাহ দিয়ে — আর দেখুন আল্লাহ কীভাবে পথ খুলে দেন।
কোনটা আপনার সবচেয়ে কাজে লাগবে? কমেন্টে নম্বর লিখুন —
১ — সকালে ইস্তিগফারের অভ্যাস করবো
২ — সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার মুখস্থ করবো
৩ — দুটোই শুরু করবো