যাদবপুরের প্রাক্তন অধ্যাপক হিসাবে আমি ব্যথিত যে এখানে সব কুনাট্য হচ্ছে (এবং তাতে আনন্দবাজার আনন্দে লুঙ্গি তুলে হয়ে গেরুয়া গুন্ডামি বলে লাফাচ্ছে), কিন্তু বিস্মিত নই। কারণ এই যাদবপুরেই অজাতশত্রু অধ্যাপক গোপাল সেনকে খুন করেছিল নকশালরা, আর এই যাদবপুরেই উপাচার্য (আমারই এক প্রাক্তন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক) ইন্টারভিউয়ের সময় আমার সামনে দেঁতো হাসি হেসে আলিমুদ্দিন-অনুমোদিত প্রার্থীর সম্বন্ধে বলেছিলেন, “একে কিন্তু নিতেই হবে"। এই দুই ঘটনার মধ্যে দিয়ে যে স্রোত প্রবাহিত তার নাম বাঙালি-বামপন্থা, যার বিরুদ্ধে কিছু বলা কড়া বারণ ।
আবার বলছি, ছাত্র সংগঠন থাক, কিন্তু তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-ভিত্তিক হতে হবে, কোনো পার্টির লেজুড় ‘ছাতা সংগঠনের’ অধীন হলে চলবে না। কারণ লেজুড় সংগঠনরা পার্টির স্বার্থই দেখবে, ছাত্র, শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ দেখবে না। ঠিক এই ভাবে বামফ্রন্ট আমলে সিটুর ছাতা-আশ্রিত সংগঠন পার্টির স্বার্থে পায়ে পা বাধিয়ে স্ট্রাইক করিয়ে কারখানা তুলে দিয়েছিল এবং দক্ষ শ্রমিকদের ট্রেনে চানাচুর বিক্রি করতে বাধ্য করেছিল।