আমি ব্যক্তিগতভাবে সব ধরনের অশ্লীলতা এড়িয়ে চলি। নারীর সম-অাধিকারে বিশ্বাস করি বলেই কোনো অপরাধী নারী হলে তার অপরাধকে আলাদা বা হালকা করে দেখার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। আর সেই অশ্লীলতা বা ধৃষ্টতা যখন কোনো নারীর মুখ থেকে প্রকাশ পায়, তা আরও বেশি অনভিপ্রেত ও ভয়াবহ রূপ নেয়। সম্প্রতি মেহের আফরোজ শাওন ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে যেভাবে শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে পাল্টা অশ্লীলতা বা তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, সেটাও কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
আজ দেখলাম বিনোদন জগতের কিছু তারকা মেহের আফরোজ শাওনের পক্ষে সাফাই গাইছেন। তাদের যুক্তি—এই ‘বিপদের সময়’ সহকর্মী হিসেবে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমার মূল আপত্তিটা ঠিক এখানেই। আমাদের সমাজ আজও এই অন্ধ গোষ্ঠীপ্রীতি বা ‘ট্রাইবালইজম’ (Tribalism)-এর বৃত্তে বন্দি হয়ে আছে। আমার পরিবারের, আমার পেশার, আমার প্রতিষ্ঠানের কিংবা আমার এলাকার লোক অন্যায় করলেও কেবল ‘পরিচয়ের খাতিরে’ তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে—এই আদিম মানসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
পেশাগত জীবনে আমার বন্ধুদের একটি বড় অংশ খুনি জিয়াউল আহসানের সমর্থক, এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউদ্দিনের ক্যাশিয়ার, আর কিছু চেনা মানুষ এখনো ভারতের সাথে যোগাযোগ রাখছে; এমনকি ভারতে পালিয়ে যাওয়া মেজর জেনারেল কবিরের চরম সুবিধাবাদী ভূমিকার কথাও সর্বজনবিদিত।
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (BMA) থাকাকালীন সময় থেকেই আমি সবার কাছে অত্যন্ত সহযোগিতাপরায়ণ হিসেবে পরিচিত ছিলাম। আমার কোর্সমেটরা খুব ভালো করেই জানত যে, প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো যৌক্তিক সাহায্যের প্রয়োজন হলে কার কাছে যেতে হবে। কিন্তু পারস্পরিক সহযোগিতার অর্থ এই নয় যে—আমার ভাই, বন্ধু বা সহকর্মী দেশের মানুষের ওপর হত্যা, গুম, কিংবা দেশদ্রোহিতার মতো অপরাধ করবে আর আমি অন্ধের মতো তার পক্ষে দাঁড়াব। অন্যায়কারীর কোনো দল বা গোষ্ঠী পরিচয় থাকা উচিত নয়। এই অন্ধ মানসিকতা পরিহার করার সময় এসেছে।
যারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করে, তাদের আমি তীব্রভাবে ঘৃণা করি। মেহের আফরোজ শাওনসহ যারা জুলাই বিপ্লব নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তাদের এখনো কেউ গ্রেপ্তার করেনি, গুম করেনি কিংবা বিচারের নামে হত্যা করেনি—এটাই জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় অর্জন। ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে আপনাদের বয়ান ও নীরবতা বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের নির্মম নির্যাতনকে বৈধতা দিয়েছিল। তারপরও সরাসরি মাঠপর্যায়ের অপরাধে জড়িত না থাকার কারণে আপনাদের ওপর কোনো অন্যায় প্রতিশোধ নেওয়া হয়নি, কোনো আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়নি—এটাই এই নতুন বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও জুলাইয়ের প্রকৃত অর্জন।
তবে মনে রাখবেন, এই বিপ্লব এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়নি। ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী হিসেবে আপনাদের যে আস্ফালন এখনো দেখা যাচ্ছে, তা কেবলই সময়ের ব্যাপার। যেদিন এই বিপ্লব তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাবে, সেদিন অন্যায়ের পক্ষে কথা বলা প্রতিটি মুখ এবং বিবেকহীন আস্ফালন চিরতরে বন্ধ হতে বাধ্য।
মেজর (অব.) কাজী মৌসুমীর গ্রেফতার এবং তথাকথিত 'নিরপেক্ষ' বুদ্ধিজীবীদের দ্বিচারিতা
২৩ জুন স্বৈরাচারী ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কেক কাটার জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে গতকাল গ্রেফতার হয়েছেন মেজর (অব.) কাজী মৌসুমী। এই গ্রেফতারের পর পরই একদল তথাকথিত 'নিরপেক্ষ' বুদ্ধিজীবী তাঁর পক্ষে সস্তা সহানুভূতি আদায়ের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন। তাদের মূল যুক্তি—তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের এক শহীদের স্ত্রী, ঘটনার সময় তাঁর সন্তানের বয়স ছিল তিন বছরের কম, আর একটি কেকের দামই বা কত!
কিন্তু আবেগ দিয়ে তো আর রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইন চলে না। প্রশ্নটি কেকের দামের নয়, প্রশ্নটি হলো আদর্শ এবং নৈতিকতার। রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ফ্যাসিবাদী সংগঠনের কর্মকাণ্ডে যেকোনো ধরনের অর্থ জোগান দেওয়া যেমন আইনত অপরাধ, তেমনি তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও এক বিরাট হুমকিস্বরূপ। সেনাবাহিনীর মতো একটি শৃঙ্খলিত ও সম্মানজনক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেওয়ার পর, তাঁর কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁকে নিয়ে যারা আজ সহানুভূতির নাটক করছেন, তারা কি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণগুলো ভুলে গেছেন? এই মেজর মৌসুমী পরবর্তীতে বিয়ে করেন নাইমুজ্জামান মুক্তাকে, যিনি ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। যে দলটির হাত তাঁর প্রথম স্বামীর রক্তে রাঙানো, সেই দলেরই একজন নেতার সাথে তিনি শুধু সংসারই করেননি, বরং স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি যদি শুধু ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তবে হয়তো সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন হিসেবে মেনে নিত। কিন্তু নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অর্থায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে—ফ্যাসীবাদের প্রতি তাঁর আনুগত্য কতটা গভীর।
একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর খুব ভালো করেই জানার কথা ছিল যে, এই নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনরুত্থানের চেষ্টা একটি গভীর চক্রান্তের অংশ। আর তিনি জেনে-বুঝে, সজ্ঞানে সেই চক্রান্তে অর্থায়ন করেছেন। এর সরল অর্থ দাঁড়ায়—তিনি শুধু তাঁর প্রথম স্বামীর হত্যাকারীদের সাথেই হাত মেলাননি, বরং জুলাই বিপ্লবের দেড় হাজার ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
যিনি গণহত্যাকারী ও স্বৈরাচারের প্রকাশ্য দোসর, তাঁর অতীত যতই ট্রাজিক হোক না কেন, বর্তমানের অপরাধের জন্য তাঁর প্রতি কোনো সহানুভূতির সুযোগ নেই। অপরাধী এবং ফ্যাসীবাদের সহযোগীদের বিচার হতেই হবে। পিরিয়ড।
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (BMA) বিভিন্ন কোম্পানির নাম মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নামকরণ করা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথমদিকের কয়েকটি ফ্রিগেটের নাম ছিল ইসলামের চার খলিফা—হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)—এর নামে। এসব নামকরণ কেবল ব্যক্তি-স্মরণ নয়; বরং একটি রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্মৃতি, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং মূল্যবোধের প্রতিফলন।
আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এই ঐতিহ্যের প্রতিফলন রয়েছে। আমি আমার দুই ছেলের নাম রেখেছি ইসলামের ইতিহাসের দুই মহান বীর—হযরত হামজা (রা.), যিনি ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচা ও ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর, এবং “সাইফুল্লাহ” বা “আল্লাহর তরবারি” নামে খ্যাত হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর নামে। আমার পারিবারিক ঐতিহ্যও একই ধারার। আমার বড় দাদা তাঁর পুত্রের নাম রেখেছিলেন আলী নেওয়াজ তালুকদার, হযরত আলী (রা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা থেকে। পরে আমার দাদাও তাঁর পুত্রের নাম রাখেন আলী আকবর তালুকদার। আমার মরহুম নানার নাম ছিল উসমান তালুকদার—তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কমিশন্ড অফিসার অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন। অর্থাৎ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের পরিবারে ইসলামের ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করার একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে এ ধরনের নামকরণ আমার কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রাসঙ্গিক।
সম্প্রতি জানা গেল, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির নবগঠিত দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানির নাম ইসলামের চার খলিফার নামে রাখার একটি প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি উঠেছে। আপত্তিকারীদের একটি অংশের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই মতের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া ভিন্ন বিষয়; তবে বিষয়টি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সামরিক ইতিহাসে দেখা যায়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের সামরিক স্থাপনা, যুদ্ধজাহাজ, অস্ত্রব্যবস্থা, সামরিক ইউনিট বা জাতীয় প্রতীকগুলোর নামকরণে নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য কিংবা জাতীয় বীরদের ব্যবহার করে।
ভারতের উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে। দেশটি সাংবিধানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও তাদের প্রধান যুদ্ধ ট্যাংকের নাম অর্জুন, রকেট সিস্টেমের নাম পিনাকা, এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের নাম অগ্নি—যেগুলোর উৎস ভারতীয় মহাকাব্য ও হিন্দু ঐতিহ্য। একইভাবে বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানের স্কোয়াড্রন ও ইউনিটের নামেও ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের প্রভাব দেখা যায়।
পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতেও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পূর্ণ অনুপস্থিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঐতিহ্যগতভাবে বাইবেলে হাত রেখে শপথ গ্রহণ করেন (যদিও এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়), মার্কিন মুদ্রায় “In God We Trust” জাতীয় মটো হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রপ্রধান একই সঙ্গে Church of England-এর Supreme Governor। অর্থাৎ, আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীকী উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই সহাবস্থান করে।
এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠতে পারে—বাংলাদেশে মুসলিম ঐতিহ্য থেকে নামকরণ করা হলে সেটিকে কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী হিসেবে দেখা হবে? একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জাতীয় ও সামরিক ঐতিহ্যে ইসলামের ইতিহাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করা কি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ নয়?
অবশ্যই, রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংবিধানসম্মত মর্যাদা নিশ্চিত করা সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে প্রতীকীভাবে ধারণ করাও অনেক রাষ্ট্রে স্বীকৃত একটি বাস্তবতা।
আমার মতে, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় নির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের বীর, ভাষা আন্দোলনের শহীদ, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং দেশের মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—এসব পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে। তাই এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত তথ্য, ইতিহাস ও নীতিগত সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে; আবেগ বা দ্বৈত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নয়।
#Bangladesh #MilitaryHistory #NationalIdentity #BMA #Culture
জেনারেল ওয়াকার এখন নিঃসন্দেহে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। আমার পর্যবেক্ষণে, হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি অস্বাভাবিক ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ক্ষমতার অবস্থান থেকে তিনি এমনভাবে আলোচনা ও সমঝোতা করেছেন যে, কার্যত তিনি একটি সমান্তরাল সরকার গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সেই অভিজ্ঞতা এবং তার চারপাশে সক্রিয় আওয়ামীপন্থী ও ভারতপন্থী শক্তিগুলোর সমর্থনের ওপর ভর করেই তিনি এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনাকেও উপেক্ষা করা শুরু করেছেন!
তিনি হজে যাওয়ার আগে আমি একটি স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম যে, জেনারেল ওয়াকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভগ্নহৃদয়ে বের হয়েছেন। আমার জানা তথ্য অনুযায়ী, সেই বৈঠকে তিনি হাউস অ্যারেস্টে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শের আফের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেন। তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তার নাম মেজর জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেন।
কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবিত তালিকা ও সুপারিশগুলো গ্রহণ করেননি। বরং তিনি নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি ও কৌশলগত পদে পোস্টিং সম্পর্কে মতামত/সুপারিশ প্রদান করেন। আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জেনারেল ওয়াকার হজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এসব মতামত ও সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
পরবর্তীতে(হজ থেকে এসে)তিনি আবারও সংশোধিত ও সম্প্রসারিত আকারে তার পুরোনো সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে নিজের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
ফলাফল কী? কার্যত কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি পরিবর্তনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও সেটি এখনও বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠতেই পারে—আমরা কি বিএনপি সরকারের বর্তমান অবস্থানকে সত্যিকার অর্থে একটি শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ সরকার বলতে পারি?
যা আজ ঘটছে, তা অনেকটাই সেই বাস্তবতার প্রতিফলন, যার বিষয়ে আগে থেকেই আমি আমি সতর্ক করেছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী ভারতীয় হেজিমনির প্রভাবে জেনারেল ওয়াকার যে জুজুর ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও বিদ্যমান বলেই মনে হচ্ছে।
আমি বারবার বলেছি এবং আবারও বলছি—জেনারেল ওয়াকার ক্ষমতার অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার দিন থেকেই সরকারের জন্য ভারতীয় আধিপত্য বা প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস, বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরে যে ভারতীয় প্রভাব রয়েছে , তার একটি বড় অংশ জেনারেল ওয়াকারের পদের ক্ষমতা কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।
যদি তার বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনই তার অবাধ্যতা (Insubordination)-বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, তাহলে বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, সেনাবাহিনীর ৯৯% এবং সাধারণ জনগণ এমন পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন করবে।
এ কারণেই আমি মনে করি, বর্তমানে পলাতক আওয়ামী নেতা নেত্রীর জেনারেল ওয়াকারের পক্ষে জনমত পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে এবং নতুন নতুন বয়ান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণই নির্ধারণ করবে কোন বয়ান গ্রহণযোগ্য হবে এবং কোনটি প্রত্যাখ্যাত হবে।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, জেনারেল ওয়াকারকে পদচ্যুত করা হলে বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান আরও দৃঢ় ও কার্যকর হবে। কারণ বর্তমানে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে দ্বিধা, বিলম্ব বা ক্ষমতার দ্বৈততা তৈরি হয়েছে, তা দূর হবে।
তবে বাস্তবতা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপির একটি অংশ এখনো মনে করে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে যে, দেশের জনগণ বিদেশি প্রভাবের চেয়ে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়।
আমার মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি বিদেশি সমর্থনের ওপর নয়; বরং জনগণের আস্থা, জনপ্রত্যাশার প্রতি সম্মান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। যে সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেয়, শেষ পর্যন্ত তার অবস্থানই সবচেয়ে শক্তিশালী
"যুদ্ধের দামামা যখন চারদিকে, তখন মুদ্রার উল্টো পিঠটাও আমাদের দেখা দরকার। রাজনীতির মারপ্যাঁচে প্রাণ হারানো সেই নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত কি আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় না? নিচের তথ্যগুলো প্রতিটি সচেতন মানুষের ভাবা উচিত।"
হে আমেরিকানরা, সচেতন হোন!
আমাদের ট্যাক্সের টাকায় অ্যারিজোনার টাকসনে তৈরি হওয়া এই 'টমাহক' মিসাইলটিই ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬৫ শিশুর জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তথ্য-প্রমাণসহ নিশ্চিত করেছেন যে, এই বিধ্বংসী অস্ত্রটি কেবল আমাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) ভাণ্ডারেই রয়েছে। যে সময় এবং যে স্থানে স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়েছে, তার সাথে মার্কিন অভিযানের রেকর্ড হুবহু মিলে যাচ্ছে।
এই চরম সত্য জানার পরও কি আমরা চুপ থাকব?
এখন আমাদের পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত?
#AntiWar #HumanRights #Geopolitics #IranConflict #PeaceForChildren #USForeignPolicy #Tomahawk #JusticeForInnocents #WarCrimes #StopTheViolence
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড সাধারণত তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার বা জনগণের 'হাই এজেন্ডা' দ্বারা পরিচালিত হয়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণের প্রধান দাবি ছিল ১৪০০-এর অধিক শহীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের অবসান। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ হত্যা বা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত বিএনপির ইশতেহারে না থাকা সত্ত্বেও কেন হঠাৎ অগ্রাধিকার পাচ্ছে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন অফিস করেই বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন বিচার বিভাগীয় তদন্তে করবেন মর্মে কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে এর বিরুদ্ধে জনগনের মতামত বুঝতে পেরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।এটা সাধুবাদ জানাই; আপনারা আওয়ামীলীগ থেকে একটু ভালো তারা ক্ষমতার দম্ভে জনগণের মতামতকে কেয়ার করত না।
এই পুলিশ হত্যা ইস্যু আর বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নতুন তদন্ত দুটোকি জনগণের বহুল প্রত্যাশিত ছিল? না ছিলনা! এই দুটো ইস্যু বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ছিলনা জনগণের হাই এজেন্ডায় ছিলনা তবে বিএনপির নির্বাচন পরবর্তী হাই এজেন্ডা এ দুটি হবার করান কি?
আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে পুলিশ হত্যা ইস্যুতে কারা মাতামাতি করতো? আওয়ামীলীগ! আর বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন তদন্ত হবে শুনে কাদের উৎফুল্ল হতে দেখেছি? সেই আওয়ামীলীগ।
লে হালুয়া! বিএনপিকি আওয়ামীলীগের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে? হতে পারে বিএনপি এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করছে।এতে আওয়ামীলীগ ও খুশি হলো আবার তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কাবু করার একটি হাতিয়ার হলো। একই সাথে ভুলে গেলে চলবে না যে পুলিশ হত্যার তদন্ত হলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে। সহিংস রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব পক্ষেরই সংশ্লিষ্টতা থাকার বিস্তর সম্ভাবনা আছে। ফলে এই ধরনের মামলা ভবিষ্যতে বিএনপির নিজের নেতা-কর্মীদের জন্যও 'বুমেরাং' হয়ে দাঁড়াবে। “পিক অ্যান্ড চুজ” পদ্ধতিতে বিচার পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে তা নিজেদের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।
জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর যে নির্বিচার গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই যদি পুলিশ হত্যা মামলা নিয়ে অতি-তৎপরতা দেখানো হয়, তবে তা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিটকে খাটো করবে।একই সময়ে আওয়ামীলীগের ৫ আগস্ট পূর্ব সহিংসতায় নিহত বহু মানুষের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তুলনামূলক নীরবতা থেকে সরকার যদি এখন পুলিশ হত্যা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে যা জনগণের রায় নয় তবে তারা এখানে কতটুকু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করবে তা বিশ্লেষণের দাবী রাখে।আমরতো মনে হয় এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করার মানে হবে তাদের মসনদের নীচে আপাতত ধীরে ধীরে জমে থাকা বারুদে নিজেরই অগ্নিসংযোগ করবে। ১৪০০ এর বেশি হত্যার বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের এখন প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শুরুতেই ধারাবাহিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া একটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। জনআস্থাই একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় পুঁজি। তাই রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ, বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রাধিকার, এবং রাজনৈতিক বার্তা—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগততা ও নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, যেকোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ হবে প্রমাণ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন তৈরি হলে সেটিকে উপেক্ষা না করে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠনই হবে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের পরিপক্ব পদক্ষেপ।
সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান—পুলিশ হত্যার বিচারের নামে যেন কোনোভাবেই আগস্ট বিপ্লবের চেতনা ও উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ বা দুর্বল করার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।✊
নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রচারণায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ বা ‘খাল খনন’-এর মতো জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেলেও, সরকার গঠনের পরপরই বিজিবি (BGB)-এর নাম পরিবর্তন করে পুনরায় বিডিআর (BDR) করার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন অফিসে বসেই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূনতদন্ত করার আদেশে স্বাক্ষর করা বিএনপির আসল হাই এজেন্ডা সামনে চলে এসেছে বলে আমার মনে হচ্ছে।
বিজিবির নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই , তবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হ্যাঁ তিনি নির্বাচনের আগে পিলখানা শহীদদের পরিবার এবং অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ/মিটিং করেছিলেন। তখন তারেক রহমান বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? তিনি বিডিআর নাম পূনর্বহাল করবেন! তিনি সেখানে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবেন এটা একবারও বলেননি।
ইতিমধ্যেই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জেনারেল ফজলুর রহমান কমিশনের পক্ষ থেকে যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রশ্ন জাগে—এই তদন্ত প্রতিবেদনে এমন কী ঘাটতি রয়েছে যা নতুন করে তদন্তের দাবি রাখে? দেশের সুশীল সমাজ, সেনাবাহিনী কিংবা ভিক্টিম পরিবারগুলো কি এই প্রতিবেদনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যেই পিলখানা ট্র্যাজেডির জন্য নতুন বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদনটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ না করেই এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তা জনগণের কাছে অস্পষ্ট। সেই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয় যে, এটি কেবল ডাল-ভাতের দাবিতে কোনো সাধারণ বিদ্রোহ ছিল না। বরং এর পেছনে দেশি এবং বিদেশি বিশেষ কোনো শক্তির মদদ ছিল, তিনি স্পস্ট ভাষায় এই হত্যাকান্ডের ভারতের জরিত থাকার কেথা বলেছেন। যার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর চেইন অফ কমান্ড ধ্বংস করা এবং বিডিআর (ততকালীন) ও সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত সৃষ্টি করা।
আমরা যখন দেখি জেনারেল ফজলুর রহমান স্যার নিজে পুরো প্রতিবেদনটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার পরও ইন্ট্রিম সরকার তা প্রকাশ করেনি বা দেশী বিদেশী দোষীদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অপরদিকে আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েই আরেকটি বিচারবিভাগীয় তদন্তের আদেশ জারি করেছেন! এই দুটি ঘটনার বিশ্লেষণে আমি অগনতান্ত্রিক কার্যক্রমের গন্ধ পাই।
আমার কাছে মনে হচ্ছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের রক্ষার জন্য এই নতুন বিচার বিভাগীয় তদন্ত।
যখন জেনারেল ফজলুর রহমানের মতো একজন খ্যাতিমান ও দক্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে করা প্রতিবেদনটি এখনো জনসম্মুখে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তখন নতুন তদন্ত কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে সংশয় জাগা অস্বাভাবিক নয়?
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো জাতীয় ট্র্যাজেডি নিয়ে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কৌশল অবলম্বন করা আত্মঘাতী হতে পারে। নতুন করে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি যদি সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করে কিংবা পূর্ববর্তী শক্তিশালী তদন্ত রিপোর্টকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালায়, তবে তা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।
দেশের জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা চায় প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক, কিন্তু কোনো দেশি বা বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীকে রক্ষার ঢাল হিসেবে তদন্তকে ব্যবহার করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না। ইতিহাসের শিক্ষা হলো—জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে কিংবা সত্য নিয়ে চাতুরি করলে রাজপথের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
যারা এই বিচার বিভাগীয় তদন্তে কোন অশুভ অসত্য তুলে ধরবেন বা সত্যি গোপনে সহযোগিতা করবেন তারা মনে রাখবেন দেশে যদি আবার ২য় বিপ্লব হয় তবে এবার বিপ্লবীরা আর প্রথম বারের মত সুশীল হবেনা বা শুধু জুতার মালা পরিয়ে ক্ষান্ত হবে না। তারা শহীদ হাদীর ভাষায় বলেলে আপনাদের শাউয়া মাউয়া ছিড়ে ফেলবে। সাধু সাবধান।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ 👍
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ করার নিয়মটি নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। বুথের ভেতরে মোবাইল না রাখার বিষয়টি বোঝা যায়—এতে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা হয় এবং কাউকে ভোটের ছবি তুলে প্রমাণ দেখাতে বাধ্য করার সুযোগ কমে। কিন্তু পুরো কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা প্রয়োজন।
এই নিয়মের পেছনে কিছু প্রশাসনিক যুক্তি থাকতে পারে। যেমন—মোবাইল ব্যবহার করে ভোটারদের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ সৃষ্টি বা নির্দেশনা দেওয়া কঠিন হয়, সংগঠিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির সমন্বয় কমে, আর কেন্দ্রের আশপাশে অযথা ভিড় বা উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কাও কমানো যায়। প্রশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে বাস্তব দিক থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগও আছে। কেন্দ্রের বাইরে কোনো অনিয়ম বা গণ্ডগোল হলে তাৎক্ষণিকভাবে ছবি বা ভিডিও ধারণের সুযোগ কমে যায়। এতে স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সাধারণ ভোটার বা পর্যবেক্ষকদের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে, এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বা অনলাইন সাংবাদিকদের কাজও বাধাগ্রস্ত হয়।
সব দিক বিবেচনায়, একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত মনে হয়।
বুথের ভেতরে কঠোরভাবে মোবাইল নিষিদ্ধ রাখা যেতে পারে, কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট দূরত্বে নিয়ন্ত্রিতভাবে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে একদিকে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, অন্যদিকে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।
গণতন্ত্রে নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়া নয়, বরং সেটি কতটা স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আমি আলজাজিরায় অকালকুষান্ড জয়ের বিষয়ে একটি মতামত দিয়েছিলাম। এরপর একই বিষয় নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিজ্ঞজনের মতামত পড়ে হঠাৎ উপলব্ধি হলো—একটা মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ দিক আমি অনুল্লেখিতই রেখে দিয়েছি।
এই প্রথমবার, জয়কে দেখে গাঁজখোর বা মদ্যপ বলেও মনে হয়নি। বক্তব্যে না ছিল অপ্রাসঙ্গিক উত্তেজনা, না ছিল শব্দের এলোমেলো মাতলামি।
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড পেইজ থেকে পোস্ট করা ওসমান হাদির ভিডিওটি হঠাৎ করে ডিলিট করে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন জাগে—কার ভয়ে, কিংবা কার আদেশে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী একজন ব্যক্তি নিজের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে একজন শহীদকে নিয়ে করা পোস্ট মুছে ফেলতে বাধ্য হলেন?
এই ডিলিশন শুধু একটি ভিডিও মুছে ফেলা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, নৈতিক সাহস এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের সার্বভৌমত্ব নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
যদি একজন শহীদের স্মরণ করাও ক্ষমতার কেন্দ্রে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, তবে বুঝতে হবে—সমস্যা স্মৃতিতে নয়, সমস্যা নিয়ন্ত্রণে।
শাহাদাতবরণকারী হাদী যেন আজ জীবিত হাদীর চেয়েও ক্ষমতাশালী, চেয়েও ভয়ংকর। একের পর এক পেইজ থেকে হাদীর বক্তব্যের ভিডিও মুছে ফেলা হচ্ছে—এটাই প্রমাণ করে, তার কণ্ঠস্বর কতটা গভীরে আঘাত করেছে। অথচ বাস্তবতা হলো, শহীদ হাদী এখন আর কেবল একটি নাম নন; তিনি এক আন্তর্জাতিক স্বাধীনতাকামী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন। তিনি আজ দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন নিয়েছেন এবং সেই হৃদয় থেকেই বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছেন।
এখানে একটি ছোট্ট কিন্তু নির্ভুল লিটমাস টেস্ট আছে—যদি এমন কোনো তথাকথিত দেশপ্রেমিককে খুঁজে পান, যার ওয়ালে কখনো ওসমান হাদীকে নিয়ে একটি কথাও নেই, তবে ধরে নিতে হবে তার মৃত্যু তাকে স্পর্শ করেনি। আর যে মৃত্যু স্পর্শ করে না, সে মানুষ দেশপ্রেমিক কম—স্বার্থান্বেষী বেশি।
শহীদের স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না। ভিডিও ডিলিট করা যায়, পোস্ট নামানো যায়—কিন্তু আদর্শ, প্রতীক আর আত্মত্যাগ ইতিহাসের স্রোতে আরও শক্ত হয়ে ফিরে আসে। হাদী তার প্রমাণ।
ভিডিওঃ এ.এস.এম হুমায়ুন কবির
পাকিস্তানি শিল্পীর কণ্ঠে শহীদ হাদিকে নিয়ে অসাধারণ এক গান 🥰
#Pakistan #Bangladesh #osmanhadi #hadi #InquilabZindabad #inqilabmoncho #JusticeForHadi #WeAreOsmanHadi
Tarique Rahman’s Return and the Strategic Crossroads for Bangladesh’s Opposition Politics part-2
Symbolism matters in politics. One of his first public acts after landing was to pay respects at the grave of Shaheed Hadi. The massive public turnout at Hadi’s funeral conveyed a powerful message—one that the BNP leadership had long failed to fully internalize, resulting in visible discontent among the party’s grassroots supporters. The BNP was notably absent during key mobilizations, including the movement to ban the Awami League and protests surrounding Shaheed Hadi. In this context, Mr. Rahman’s gesture is not merely ceremonial; it has the potential to realign party leadership with its base and restore confidence among ordinary voters.
Equally consequential will be Mr. Rahman’s approach to India. Should he follow the balanced, sovereignty-centered foreign policy framework pioneered by his father, the BNP could re-emerge as a formidable political force. It is hoped that the party’s strategic thinkers will provide clear and principled guidance on this front.
In my assessment, the findings of the commission investigating the BDR Pilkhana massacre have placed Bangladesh in a comparatively stronger position in negotiating with India. Mr. Rahman now has the opportunity to leverage this position responsibly and assertively. At the same time, he must ensure that broader bilateral issues with India are not conceded or sidelined under external pressure.
Mr. Rahman’s return is not the end of a chapter—it is the beginning of a defining test, both for his leadership and for Bangladesh’s opposition politics in an increasingly complex regional landscape.
Tarique Rahman’s Return and the Strategic Crossroads for Bangladesh’s Opposition Politics part-1
I welcome the return of Mr. Tarique Rahman to Bangladesh. Forced into exile in the aftermath of the politically engineered events of 2007–08, he was compelled to leave his homeland under pressure from a narrow but influential clique. His return today is not merely personal; it carries profound political and historical significance. With it comes a heavy responsibility—not only toward his party, but toward the broader democratic trajectory of Bangladesh.
During his years in exile, Mr. Rahman led the Bangladesh Nationalist Party (BNP) largely through digital and remote means. This mode of leadership has naturally generated both debate and criticism. From an external vantage point, it appears that his prolonged absence contributed to internal fragmentation within the BNP. Competing ideological and strategic camps—some perceived as India-leaning, others as firmly Bangladesh-centric—emerged, alongside signs that party decisions were often taken without effective central oversight.
When Mr. Rahman himself suggested that his return depended not only on his personal wishes but also on party considerations and certain undisclosed factors, it inevitably raised questions about regional dynamics—particularly India’s role. These questions were further reinforced by India-friendly statements from segments of BNP leadership and by narratives promoted in Indian media outlets, which appeared to legitimize prolonged delays in his return.
I believe that Mr. Rahman’s homecoming was obstructed for years by a manufactured “security threat” narrative emanating from India. The strength of this narrative became evident when, only days ago, I stated that Mr. Rahman would return to Bangladesh within 24 hours—a claim that later proved accurate. At that time, Bangladesh’s Special Security Force (SSF) was reportedly placed on alert, and visible security preparations were observed at Dhaka’s international airport, receiving media coverage. Yet shortly thereafter, Adviser Rezwana—acting beyond her formal mandate—publicly declared that Mr. Rahman would not be granted SSF protection. This raises a critical question: had government policy changed at that moment? If not, why is SSF protection being provided now?
Mr. Rahman’s return presents a rare and decisive opportunity. Until now, the public has not had the chance to directly assess his political and organizational leadership on the ground. There is widespread expectation that he will initiate positive and structural reforms within the BNP, restoring coherence, discipline, and public credibility.
হাদি হত্যা কোনো ‘হঠাৎ ঘটনা’ নয়—এটা ছিল ঠান্ডা মাথায় করা রাজনৈতিক কিলিং মিশন।
🔴 শ্যুটার শত্রু হয়ে আসেনি, এসেছে কর্মী পরিচয়ে। ৭ দিনের মধ্যে আস্থায় ঢুকে কাজ শেষ।
🔴 জুমার নামাজের পর, জনসমাগমে খুব কাছ থেকে গুলি—এটা ‘মেসেজ কিলিং’।
🔴 অস্ত্র, ফোন, নম্বরপ্লেট গায়েব; ডাইভারসন তৈরি করে সীমান্ত পার—লোকাল ক্রাইম হলে এটা সম্ভব?
🔴 উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ ও অস্ত্র প্রশ্ন তোলে—হাদি কি একমাত্র টার্গেট ছিল?
🔴 হাদি ছিলেন উদীয়মান নেতা, মাঠে থাকা কণ্ঠস্বর—এই হত্যার বার্তা স্পষ্ট: নতুন নেতৃত্ব নিরাপদ নয়।
প্রশ্ন একটাই—শ্যুটার নয়, নির্দেশদাতা কে?
এই খুনের বিচার মানে শুধু একজন খুনির শাস্তি নয়, বরং বন্দুক দিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া অদৃশ্য শক্তির মুখোশ উন্মোচন।
হাদির রক্ত প্রশ্ন রেখে গেছে—আমরা কি এই খুনের রাজনীতিকে স্বাভাবিক হতে দেব?
জুলকারনাইন সায়ের, যিনি সামি নামেও পরিচিত, একজন মরহুম সেনা কর্মকর্তার সন্তান। পারিবারিক পরিচিতি ও প্রভাবের কারণে তিনি প্রথমে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, নৈতিকতা–সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই তাকে অপসারণ করা হয়।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের বহুলপরিচিত কৌশল—কম মেধাসম্পন্ন কিন্তু নৈতিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল, প্রলোভন ও পুরস্কারের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা—এর একটি ক্লাসিক উদাহরণ হিসেবেই সামির ভূমিকা প্রতিভাত হয়। প্রথমে তিনি হাসিনার শাসনব্যবস্থার পক্ষে সক্রিয় ছিলেন, পরবর্তীতে অধিক সুবিধার আশায় সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং পরিস্থিতি অনুকূল মনে হলে জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন।
একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আনতে আমি স্বাভাবিকভাবেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, বর্তমান ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে যেসব শক্তির দ্বারা তিনি প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন—এসব সম্পর্কে অবগত হয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।
হাদীর রক্তের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি নেই। সামনের দিকে তাকিয়ে আছি—২৫ ডিসেম্বর যদি একই ফ্লাইটে তার বাংলাদেশে আগমন ঘটে, তবে তাতে আমার বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।
এই দুটো লিংক শেয়ার করলাম সফট রিমাইন্ডার হিসেবে।
https://t.co/a2dRV2cuxg
https://t.co/6z275rWSzU
শহীদ ওসমান হাদীর পবিত্র রক্ত কোনো ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, কোনো আপসের দলিলও নয়।
হাইজ্যাক হয়ে যাওয়া বিপ্লব পুনরুদ্ধার করা এখন ফরজ দায়িত্ব—কারণ এই বিপ্লবই ছিল ওসমান হাদীর ঈমানী অঙ্গীকার।
যতক্ষণ না জুলুমের শিকড় উপড়ে ফেলা হয়, ততক্ষণ শহীদদের রক্তের হক আদায় হয় না।
যদি আমরা নীরব থাকি, তবে আমরা শুধু ব্যর্থ নই—আমরা শহীদদের আমানতের খেয়ানতকারী।
শোকবার্তা
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী, খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার–এর ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব, অসামান্য কৌশলগত প্রজ্ঞা ও আপসহীন দেশপ্রেম বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর আজীবন নিষ্ঠা, ত্যাগ ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন—আমিন।