আহমেদনগর (অহল্যানগর) এসেছিলাম অফিসের কাজে। ফেরার ট্রেনের অপেক্ষায় এখন প্ল্যাটফর্মে।
এ রেলস্টেশন প্রায় দেড়শো বছর পুরনো। এখনও ভারি সুন্দর। এমন সাতপুরনো (এবং মোটের ওপর পরিষ্কার ও দিব্যি নিরিবিলি) স্টেশনে বসে নিশ্চিন্তে সময় কাটানো যায়।
এমন বিকেলে আমতেল ও লঙ্কা দিয়ে মাখা মুড়ি চিবুতে চিবুতে টিনটিন পড়া উচিৎ। জগিং করে, মলে ঘুরে, টিভি দেখে এমন উঁচু দরের বিকেল জলে দেওয়ার কোনো মানে হয় না
গল্পের বইতে মলাট চলে না। কালি বা পেন্সিল দিয়ে দাগানো চলে না। গল্পের বইয়ের অলংকার হলো আঙুলের পেজমার্ক। পুরনো টিকিট, ওষুধের বিল, খুলে রাখা হাতঘড়ি; এ সমস্ত জিনিসের জেল্লা বেড়ে যায় গল্পের বইয়ের ভাঁজে রাখলে।
যুক্তি দিয়ে বোঝানো আমার কম্ম নয়। কিন্তু বইপড়া মানে আমি এ বয়সেও গল্পের বই পড়া বুঝি। আর যা কিছু, তা সবই স্রেফ 'পড়া'।
কেউ ভালোবেসে গল্পের বই পড়ছে, এ'টা কল্পনা করতে চাইলে সে মানুষকে কিছুতেই টেবিলে বসে থাকা অবস্থায় কল্পনা করতে পারি না।
পুরী স্টেশনের কাছে ভূবার দোকান। সে'খানের ডালমা কচুরির স্বাদ ভোলার নয়। সঙ্গে ছানার জিলিপি। ছানাপোড়া (ছেনাপোড়া বলাটাই দস্তুর) আমার তেমন ভালো লাগে না, যাদের লাগে তাদের জন্য সে ব্যবস্থাও আছে।
ভোরের ট্রেনে পুরী পৌঁছলে ভূবার দরবারে একবার হাজিরা দিয়ে যাওয়াটা দরকার।