আজ থেকে প্রায় তিন লক্ষ বছর আগে, আফ্রিকার কোনো এক সবুজ তৃণভূমিতে, আমাদের সকলের পূর্বপুরুষ একসঙ্গে আগুন জ্বালিয়ে বসেছিল। তখন কোনো ধর্ম ছিল না। কোনো দেশ ছিল না। কোনো জাত ছিল না। ছিল শুধু মানুষ — ভয় পাওয়া, স্বপ্ন দেখা, ভালোবাসা, বেঁচে থাকার চেষ্টা করা মানুষ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর যে-কোনো প্রান্তের দুটি মানুষের জিনের পার্থক্য এত সামান্য যে, একই প্রজাতির দুটি শিম্পাঞ্জির মধ্যে পার্থক্য তার চেয়ে বেশি।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কোনো শিশু জন্মের সময় "অপর" বলে কাউকে চেনে না। সে শুধু চেনে উষ্ণতা আর শীতলতা, যত্ন আর অযত্ন। "ওরা" ও "আমরা"-র বিভাজন সমাজের থেকে শেখা। কেউ শেখায় ভালোবেসে, নিজের সংস্কৃতির প্রতি গর্ব জাগাতে গিয়ে। কেউ শেখায় ভয় থেকে, নিজেকে নিরাপদ রাখতে গিয়ে। কেউ বা আবার শেখায় ক্ষমতার জন্য, কেননা বিভক্ত মানুষকে শাসন করা সহজ।
আমরা যে-ধর্মে জন্মেছি, যে-ভাষায় স্বপ্ন দেখি, যে-দেশের মাটিতে বড় হয়েছি — এর কোনোটাই কি আমাদের বেছে নেওয়া? এই পরিচয়গুলো আমাদের কাছে এসেছে, জন্মের আগেই সে সব সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এগুলো আমাদের উত্তরাধিকার, আমাদের শিকড়। শিকড় ভালো জিনিস, শিকড় না থাকলে গাছ পড়ে যায়। কিন্তু শুধু শিকড় নিয়ে থাকলে গাছ বাড়েও না -- বাড়তে হয় উপরে, আলোর দিকে।