প্রশ্নঃ আপনারা যে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাঁড়িয়ে সালাম দেন, তা কোন হাদিসে আছে?
জবাবঃ আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজীদের মধ্যে বলেন- إنّ اللّه وملاٸکته يصلّون علی النّبي ، يا أيّها الذين اٰمنوا صلّوا عليه وسلموا تسليما. অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি সালাত পেশ করেন। হে ইমানদারগণ, তোমরা তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং সালামের মতো সালাম দাও। (সূরা আহযাব: ৫৬)।
এখানে আল্লাহ তাআলা سلموا তথা সালাম দাও এতটুক বলতে পারতেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলা পরে تسليما শব্দ ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ তাজিম সহকারে সালাম দাও।
ইমাম বায়জাবী (রহঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন- إن اللّه وملاٸکته يصلون علی النبي يعتنون باظهار شرفته وتعظيم شانه يا أيها الذين اٰمنوا صلوا عليه اعتنوا أنتم ايضا فانکم أولی بذالك وقولوا اللهم صل علی محمد وسلموا تسليما. قولوا السلام عليك ايها النبي . অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এবং ফেরেশতাগণ রাসুল (সাঃ) এর উচ্চতার বিকাশ এবং মহিমা বৃদ্ধির জন্য অর্থাৎ তাজীমের জন্য যত্নবান। অতএব হে ইমানদারগণ, তোমরাও তাঁহার উচ্চতার বিকাশ এবং তাজীমের জন্য যত্নবান হও। এই কর্তব্য তোমাদেরই অধিক হওয়া উচিৎ। অতএব তোমরা বলো "আল্লাহুম্মা সাল্লে-আলা মুহাম্মাদ এবং তাকে সালামের মতো সালাম দিও। অর্থাৎ বলো আসসালামু আলাইকা আয়্যেুহান্নাবীয়ু। (তাফসীরে বায়জাবী)
কিয়ামের দলিলঃ উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে তাবারী এবং তাফসীরে নাসাফী মধ্যে হাদিস শরীফ উল্লেখ করেছেন, হযরত কাব বিন উজরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, যখন সূরা আহযাবের উক্ত আয়াত নাজিল হলো তখন আমরা সকলে দাঁড়িয়ে গেলাম অতঃপর নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাম পেশ করলাম। এরপর তিনি বললেন যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিভাবে সালাম দিতে হয় তা আমরা জানতে পারলাম। (মূল কিতাবের স্কিনসট নিচে দেওয়া আছে)
সুতরাং উক্ত আয়াতের মর্ম সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) তাঁরা বুঝেছেন এবং দাঁড়িয়ে সালাম দিয়েছেন।
২নং হাদিসঃ ইবনে সায়াদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার তাবাকাতুল কুবরার ২৮৪ নাম্বার পৃষ্ঠায় একটি সহীহ হাদিস উল্লেখ করেছেনঃ হযরত ইবনে আব্দুল আজিজ সদাফী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বর্ণনা করেন যে, আমরা ইয়ামান থেকে দশজনের অধিক লোক নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম, আমাদের শরীলে চাদর এবং লুঙ্গি ছিলো, আমরা নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক ও মিম্বরের মাঝখানের জায়গায় বসলাম। আমাদেরকে নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেন তোমরা কি মোসলমান? আমরা জবাব দিলাম, হ্যা আমরা মোসলমান। নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সালাম দিলে না কেনো? তখন আমরা সকলেই দাঁড়িয়ে গেলাম অতঃপর বলিলাম, السلام عليك ايها النبی ورحمة الله নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, وعليکم السلام তারপর বললেন, এখন তোমরা বসো।
(মূল কিতাবের স্কিনশট নিচে দেওয়া আছে)।
সুতরাং উক্ত হাদিস থেকে প্রমাণিত হলো যে, সম্মানের জন্য বসা থেকে দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে সালাম দেওয়া উত্তম এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু তাদের সুন্নাহ।
৩নং হাদিসঃ ইরশাদ করেন- روی عنه ﷺ انه قال من صلی علی صلوة تعظيما لحقی خلق اللّه عزّ وجل من ذالك القول ملکا له جناح بالمشرق والاٰخر بالمغرب ورجلاه مقرورتان فی الأرض السابعة السفلی وعنقه ملتوية تحت العرش يقول اللّه عزّ وجلّ له صل علی عبدی کما صلی علی نبيی فهو يصلی عليه الی يوم القيامة - (دلاٸل الخيرات অর্থাৎ নবীজি (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে আমার প্রতি তাজীম বা সম্মান জ্ঞাপনার্থে দুরুদ পেশ করে, আল্লাহ পাক সেই দুরুদ শরীফ দ্বারা একজন ফেরেশতা তৈরি করেন, যার একটি পাখা থাকবে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে, আর একটি পাখা থাকবে পশ্চিম প্রান্তে, তার পদযুগল জমিনের সপ্তম স্তরে দণ্ডায়মান হবে। তার গর্দান আরশের ছায়াতলে পৌছবে, আল্লাহ পাক সেই ফেরেশতাকে বলেন, তুমি আমার বান্দার প্রতি দুরুদ প্রেরণ করতে থাক যেমন সে আমার নবীর প্রতি দুরুদ শরীফ প্রেরণ করেছে। অতঃপর সে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত সে ব্যক্তির প্রতি দুরুদ পেশ করিতে থাকিবে। (দালায়েলুল খায়রাত, দুরুদ শরীফের ফজিলত অধ্যায়)
তাই আমরা বিশেষ করে সালামের সময় কিয়াম করে থাকি।
আমেরিকার আত্যিবয়ান আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ২০২৩- এ কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত ইমাম ও খতিব, শায়েখ Mohammadullah Hafiz (হাফিঃ) এর সুযোগ্য বড় ছেলে, স্নেহের Mohannad Bin Mohammad বাংলাদেশের পক্ষে ৩য় স্থান অধিকার করেছে আলহামদুলিল্লাহ, শুভ কামনা রইলো তোমার জন্য আল্লাহ পাক তোমাকে আরো কামিয়াব করুন, আমিন। ❤️