"শুধু তাই নয়, যানবাহনে ছিল শৃঙ্খলা, ভাড়া ছিল নিয়ন্ত্রিত, রোজার ঈদে দ্রব্যমূল্যের দাম ছিলো নিয়ন্ত্রণে, ছিলো না লোডশেডিং" একটি দূর্বল সরকার নিয়ে প্রফেসর ইউনূস অনেক কঠিন কাজ গুলোর সমাধান করেছেন।
মুহাম্মদ ফওজুল কবির খান, সাবেক বিদ্যুৎ এবং সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমি কেবলমাত্র একজন উপদেষ্টার একাধিক বার প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলাম, তিনি হলেন মুহাম্মদ ফওজুল কবির খান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরে প্রতিদিন ১/২ টা আন্দোলন, সব দিক দিয়ে এত অসহযোগিতা হবার পরেও এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়নি।
ঈদের সময় সড়কে যানজট হয়নি। বাস-ট্রেন সময় মত ছেড়েছে।
একটা মিমস জনপ্রিয় হয়েছিলো— ৯:০১ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখি, ৯ টার ট্রেন ১ মিনিট আগে চলে গেছে, এত ভাল কি চেয়েছিলাম!?
ফওজুল কবির খানকে জামাত ট্যাগ দিয়ে এমনকি সরকারের ভেতরেও অনেকে অসহযোগিতা করে। এরপরেও দুইটা মন্ত্রণালয়ই দারুণ পারফর্ম করে।
২০০১ সালে বেগম জিয়া মাহমুদুর রহমানকে জ্বালানি উপদেষ্টা বানানোর পরে এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরেছিলো। তারেক রহমান ফওজুল কবির খানকে কাজে লাগাতে পারেন।
ফ্রান্স থেকে পিনাকী লিখেছেন…
ইন্টেরিম আমলে ফাওজুল ভাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। উনাকে জামাতি বলে সারাদিন ভ্যান ভ্যান করত বিম্পির ছাপড়ি এক্টিভিস্টরা। এখন টুকুর আমলের কি অবস্থা?
যমুনা ঘেরাও হবে?
মীর সালমান শামিল
'সিফাত, গুলি কইরা দিছে রে!' বলতে বলতেই বাবা বাইক থেকে পড়ে গেছেন—
"৫ আগস্ট অন্য সবার মতো বাবাও উৎফুল্ল ছিলেন, খুব খুশি ছিলেন যে এতো মানুষের জানের বিনিময়ে এরকম এক স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।
বিকাল হয়ে আসলো যখন আমি আর বাবা গণভবন থেকে বের হয়ে গেলাম৷ ক্যান্টনমেন্টে আমার খালার বাসায় আমার ছোটবোন সিনথিয়া ছিল। ওকে পিক করে মিরপুর-১৪ হয়ে আমাদের বাসায় ফিরার প্ল্যান৷
ক্যান্টনমেন্টে ঢুকার রাস্তায় দেখি অনেক আর্মির মোটরসাইকেল অস্ত্রসহ দাঁড়িয়ে আছে৷ আমরা ভেবেছি, হাসিনার পতন হয়েছে, ওরা নিশ্চয়ই জনগণের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ তাই আমরা তেমন ভয় পাচ্ছিলাম না৷
যখন মিরপুর-১৪ আসলাম তখন আমার বাবা বাইক চালাচ্ছেন, মাঝখানে আমার বোন, শেষে আমি বসা ৷ আনুমানিক সন্ধা সাড়ে ছয়টা মিরপুর-১৪ মোড়ে কিছু রিকশাওয়ালা আব্বুকে বললো 'সামনে যায়েন না, সামনে মনে হয় পুলিশ গুলি করতেছে৷'
বাবা যখন বাইকটা ঘুরায় পিছনের রাস্তার দিকে, তখনই বিপরীত লেনের থানার দিক থেকে ২৫-৩০ জন পুলিশের ড্রেস পরা লোক অস্ত্রসহ আমাদের দিকে এগিয়ে আসে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
কী হলো বুঝার জন্য বাবা একটু দাঁড়ায়, ওরা আমাদের উদ্দেশ্য করে বলছে, 'কুত্তার বাচ্চারা তোদের মতলব কী? কেনো বের হইছিস তোরা? তোদের দেখতেছি দাঁড়া!' বলেই গুলি করা শুরু করে দিলো।
রাস্তায় আশেপাশে একটা লোকও নাই৷ আমি আর আমার বোন মুহূর্তের মধ্যে লাফ দিয়ে বাইক থেকে নেমে পড়ি৷ সাইডে থাকা ফাঁকা একটা বাসের পিছনে গিয়ে লুকাই ৷
আমি উঁকি দিয়ে দেখলাম যে আমার বাবা বাইকটা ঘুরানোর চেষ্টা করছে, আর সেই সময়েই একটা গুলি এসে বাবার পেটে এসে লাগলো। বাবা বললো 'সিফাত গুলি কইরা দিছে রে!' বলতে বলতেই বাইক থেকে পড়ে গেলেন।
আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি পুরাপুরি সরে গেছে৷ আমি কী করবো বুঝতে পারছি না৷ দৌড়ে গিয়ে বাবাকে ধরলাম, পিছন থেকে দুই হাত দিয়ে টানতে টানতে আগাচ্ছি তাকে নিয়ে।
পুলিশ তখনও গুলি চালিয়ে যাচ্ছে..."
— সাইফ আহমেদ খান (শহীদ আব্দুল হান্নান খানের ছেলে, জুলাই রেকর্ডসকে দেয়া ইন্টারভিউতে)
বিচারব্যবস্থা নিয়ে কিছু গুরুতর প্রশ্ন -
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা বর্তমানে আসলে কতটা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এই প্রশ্নটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিচার বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড যদি বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কবীর হোসেইন এবং তাঁর স্ত্রী রোকসানা জাহান খান–এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষ করে ৫ আগস্টকে পুলিশ হত্যা দিবস হিসেবে উল্লেখ করা এবং আওয়ামী লীগ/শেখ হাসিনার পক্ষে বা বর্তমান সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্যের অভিযোগগুলো সত্য হলে, একজন বিচারকের পরিবারের এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
প্রশ্ন হলো একজন বিচারক যখন এমন একটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে প্রকাশ্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে, তখন তাঁর আদালতের বিচারিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রাষ্ট্র কি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে না?
আমরা অতীতে দেখেছি, রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরি, বিসিএস, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নানা ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। তাহলে এখন যদি এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগপন্থী বা ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী হওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাঁদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কী ধরনের যাচাই-বাছাই হয়েছে—সেটিও জনগণের জানার অধিকার আছে।
তবে শুধু তাঁর স্ত্রী/স্বামীর রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে অপরাধী বা পক্ষপাতদুষ্ট ঘোষণার পক্ষেও নই। প্রমাণ থাকলে তদন্ত হোক, অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও পরিষ্কার করা হোক।
কারণ আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই যেখানে বিচারককে দেখে কোনো পক্ষের মানুষ যেন আগে থেকেই ধরে না নেয় “এই আদালতে আওয়ামী লীগ জামিন পাবে” কিংবা “ওই পক্ষের বিচার হবে না।”
বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দৃশ্যমান নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাই প্রশ্ন বিচার বিভাগের সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড এবং নিয়োগ-পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য কি কোনো কার্যকর যাচাই প্রক্রিয়া আছে?
JRA
দেশে কেন তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে? কারেন্ট না থাকার কারণ কি? এর পেছনের কারণগুলো বিস্তারিত জানা দরকার।
★ ২১ জুলাই বাংলাদেশের একমাত্র ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মহেশখালীতে রহস্যজনকভাবে আগুন লেগে যায়। এর পরেই মুলত দেশে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের ম্যাক্সিমাম বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল গ্যাস কয়লাভিত্তিক।
> এই টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাসের সাপ্লাই প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট কমে যায়।
> বর্তমানে এটা আংশিক মেরামত করে ফেলা হয়েছে এই কয়দিনেই। যার, ফলে ২৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ ব্যাক করা গেছে।
এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে একটু টাইম তো দিতেই হবে। তাও মাত্র ১ মাসেরও কম সময়ে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সাপ্লাই দেয়া শুরু হয়ে গেছে।
> এই টার্মিনাল সম্পুর্ন মেরামতের পর প্রায় আরও ৩০-৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সাপ্লাই যুক্ত হবে।
★ বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্যাপাসিটি প্রায় ৮, ০০০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৫,৫০০ মেগাওয়াট।
কারণ কি? কারণ কয়লার সাপ্লাই। সুপার এল নিনো চলায় বঙ্গোপসাগরের ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ব্যাপক।
> এক পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রই ১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমেছে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিলম্ব হওয়ার কারণে।
> বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় ৪০০-৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে।
রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে।
> বড়পুকুরিয়ার ৩টি ইউনিটের মধ্যে ২টি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ।
★ আদানি পাওয়ার এর চাপ এবং ৫৫,০০০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় হাসিনার আমলের বেসরকারি সকল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
> স্পেশালি ভারতের কুটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ থাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ অনেকাংশই আর দেশে আসছেনা।
> ভুটান থেকে হাইড্রো পাওয়ার আমদানিতেও নানা ধরনের ছক কষছে ভারত।
এখন আমার কিছু প্রশ্ন।
১. ইরান যুদ্ধ কি তারেক রহমান লাগিয়েছেন?
২. কাতারে এলএনজি ফ্যাসিলিটিতে হামলা কি তারেক রহমান চালিয়েছেন?
৩. বাংলাদেশে এলএনজি টার্মিনালে আগুন কি বিএনপি লাগিয়েছে?
৪. বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা সংকট এবং বন্যায় কয়লার চালান ক্ষতিগ্রস্থ কি বিএনপি করেছে কিনা?
৫. হাসিনার আমলের কুইক রেন্টাল এর ৫৫,০০০ কোটি টাকার বকেয়া কি তারেক রহমান করেছেন?
৬. দেশে তেল গ্যাস কয়লা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো বৈচিত্র না আনার দায়টাও কি তারেক রহমানের?
যদি উত্তরগুলো না হয়, তাহলে আমার মতে তীব্র লোডশেডিং আর গ্যাসের সমস্যার বাপারে সবার একটু সহনশীলতা দেখানো দরকার।
সরকার ইচ্ছা করে তো আর গ্যাস বিদ্যুৎ আটকায়ে রাখেনাই এই কমনসেন্সটুকু রাখতে হবে।
গায়ে পড়ে কি সরকার পাবলিকের গালি খাইতে চাবে? একটু বাস্তবতা বুঝেন।
৬ মাসও হয়নাই একটা সরকারকে যদি সব দিক থেকে এত প্রেশার দেয়া হয়, তাইলে তো কোনো কাজ করাই সম্ভব না।
টার্মিনালটা মেরামত হোক, আবহাওয়া একটু লাইনে আসুক, গ্যাস বিদ্যুৎ সরবারাহ এমনেই স্বাভাবিক হবে। এগুলাতো সরকারের হাতে নাই।
সরকারের অনেক ভুল আছে যেগুলা নিয়ে সমালোচনা করা সম্ভব। কিন্তু গ্যাস বিদ্যুতের সমস্যার প্রকৃত কারণ না জেনেই এটাকে ইস্যু করা প্রবলেম্যাটিক।
বেগম খালেদা জিয়া - ইবলিশ প্রণব মুখার্জির যে সাক্ষাৎ করেননি, সেটি তার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব বোধের বহিঃপ্রকাশ যা তাকে সকলের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার পাত্র করেছিল। সকলে আশা করে - প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর মায়ের পথেই হাটবেন।
জ্বালানি সেক্টর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিলে কি অবস্থা হয় সেটা যারা কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট ও ইন্ডিয়ার আদানির বিদ্যুতের অবস্থা দেখেও কিছু শেখে নাই;
তাদের গোয়া মারা সারা করতে শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।