মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমুর দুই হাত পিছনে নিয়ে হাতকড়া পড়ানো হয়েছে, আর আওয়ামীলীগের আমলে রাজাকার যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে হাতকড়া ছাড়াই হুইলচেয়ারে আপ্যায়ন করে আদালতে তোলা হয়েছিল।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) এখন নিজেরাই নিজেদের ব্যঙ্গচিত্রে রূপ নিচ্ছে—তাও আবার নিখুঁত কৌতুকশৈলীতে।
একটা সময় ছিল যখন সেনাবাহিনী (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) নাম শুনলেই একটা শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা, জাতির রক্ষাকবচ—এই ধারণাগুলো মাথায় আসত। এখন? এখন তারা নিজ দায়িত্বে নিজেদেরকে রাজনৈতিক পুতুল বানিয়ে নাটকের খলনায়ক ও কৌতুক চরিত্র—দুই রোলেই অভিনয় করছে।
একটা সামরিক অনুষ্ঠানে তারা ডেকে আনছে এক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রকে—এটা ঠিক আছে, রাষ্ট্রীয় সৌজন্যের অংশ ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু সেই ব্যক্তি যখন পার্শ্ববর্তী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে উসকানিমূলক ও বালখিল্য মন্তব্য করে এবং সেই বক্তব্যে সেনাবাহিনী (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) হাততালি দিয়ে সায় দেয়—তখন সেটা শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, বরং সরাসরি আন্তর্জাতিক কূটনীতির গায়ে থুতু মারা। এবং সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো—এই চিৎকারের পিছনে সেনাবাহিনী (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী)-এরই একটি অংশের স্পনসরশিপ স্পষ্ট।
এই ঘটনাই প্রমাণ করে—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) এখন আর এককভাবে চলে না। সেটা এখন তিন-চার ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। কারা কার দুধ-ভাতে আছে, সেটা এখন আর গোপন নেই। তাই এক রাজনৈতিক চামচা, সেনাপ্রধানকে প্রকাশ্যে অপমান করে ফেলে, কারণ সে জানে—তার পিছনে আছেন উর্দি পরা গডফাদাররা।
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই একই বক্তব্য যদি বিএনপির কেউ দিতেন? যদি তাদের কেউ সেনা (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) অনুষ্ঠানে গিয়ে আরেক দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলতেন? তাহলে এতক্ষণে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, গুম, জেল, মিডিয়া ট্রায়াল সবই হয়ে যেত। কিন্তু এখন? উল্টো হ্যান্ডশেক, হাহা, হাততালি!
এটাই কি পেশাদার বাহিনীর (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) চেহারা?
নিজেরা নিজেদের অস্ত্র দিয়ে নিজেদের মর্যাদাকে গুলি করে চলেছেন, আর ভাবছেন জনগণ অন্ধ! মনে রাখা দরকার—আপনাদের বিরুদ্ধে কোনো বিদেশী যুদ্ধ লাগার দরকার নেই, আপনারা নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন, এবং দেশের মানুষ এখন সেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে।
এখনকার সেনাবাহিনী (বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী) আর সেনাবাহিনী না—এটা এখন একটা ভাগাভাগির রিহার্সেল থিয়���টার, আর মাঝে মাঝে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে কৌতুক বানিয়ে তুলে ধরে দেশের সামনে।
সংস্কার নাম্বার ১২৪: বাংলাদেশ ক্রিকেট সংস্কার
বাংলাদেশ ক্রিকেট এমন এক গহ্বরে পড়েছে, যেখানে এবারের খেলা দেখানোর লাইসেন্স কেউ কিনতেই আগ্রহী না—না কোনো আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল, না এমনকি বাংলাদেশের কোনো টিভিও!
বাংলাদেশ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ইতিহাসে এই প্রথম এমন অবস্থা।
একটা সময় ছিল, যখন অন্তত গালি দিতেও পাপন দাদা ছিলেন।
তিনি ছিলেন জনগণের একমাত্র “ফিডব্যাক বক্স”—গালি হোক, সমালোচনা হোক, সবই জমা পড়ত তার ঠিকানায়।
এখন পাপন নাই, তাই গালির রিসিভার-ই নাই।
নীরবতা এখন এমন এক পর্যায়ে, যেখানে গালি দেওয়ার জন্যও অনুমতি নিতে হয়!
---
তো বলুন সংস্কার কেমন লাগলো?
আরাকান আর্মি বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়েছে—এটা আর গুজব নয়, বাস্তব।
থানচিতে এসে তারা প্রকাশ্য দিবালোকে জল উৎসবের মতো অনুষ্ঠান করছে। প্রশ্ন উঠছে—এই সাহস তারা কোথা থেকে পেল? আর আমাদের বর্ডার গার্ড বাহিনী তখন কী করছিল? কাঁটাতারের এই পাশে এসে একদল বিদেশি সশস্ত���র গোষ্ঠী উৎসব করছে—এটা কেবল সীমান্ত লঙ্ঘন না, সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত।
আরাকান আর্মি তো এখন শুধুই একটা বিদ্রোহী গোষ্ঠী না—তারা মিয়ানমারের ভেতরে ১১টি শহর দখল করে নিয়েছে, সংগঠিত একটি সশস্ত্র বাহিনী। এখন তারা বাংলাদেশের ভেতরে অনুপ্রবেশ করে অনুষ্ঠান করছে। আজ যদি থানচিতে তারা উৎসব করতে পারে, কাল হয়তো রুমা, রোয়াংছড়ি কিংবা পুরো খাগড়াছড়িই দাবি করে বসবে।
এটা নিছক ন���রাপ��্তা ইস্যু নয়—এটা ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সংকেত।
আর যদি এখনই রাষ্ট্র কার্যকর অবস্থান না নেয়, তাহলে এর ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ।
দেশের সার্বভৌমত্ব কোনও রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়—এটা জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন।
জরুরি ভিত্তিতে এই বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়া দরকার—নয়তো আমরা নিজেরাই নিজের ভূখণ্ড একদিন হাতছাড়া করে ফেলব, শুধুই নির্লজ্জ নীরবতার কারণে।
ঢাকায় যখন নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে হই��ই চলছে, তখন বান���দরবানে মিয়ানমারের স'ন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান আর্মি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আয়োজন করেছে ‘Arakha Water Festival’। এই উৎসবে অস্ত্রধারী আরাকান আর্মির সদস্যরা মঞ্চে উঠে গান গায়, নাচ করে ও বক্তৃতা দেয়। চারপাশে তাদের পতাকা ও প্রতীক টাঙানো ছিল—যেন এটি বাংলাদেশের মাটিতে এক প্রকার ‘দখলদারিত্বের’ ঘোষণাই।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একাংশ এই উৎসবে শুধু অংশ নেয়ন��, বরং আরাকান আর্ম���কে প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এটি একটি বিপজ্জনক অবস্থান, যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি চরম অবমাননা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
উৎসবস্থলে বিজিবির উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কোনো হস্তক্ষেপ না করা এক চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক। প্রশ্ন জাগে—তাহলে তারা কী রক্ষা কর��ে? এটি কি কৌশলগত অক্ষমতা, না কি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভাব?
এই আয়োজন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আরাকান আর্মির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যেখানে তারা সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক তিনটি স্তরেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে ছায়া-রাষ্ট্র গঠনের ছক কষছে তারা।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও কম জটিল নয়। আরাকান রাজ��যে চীনের কিউকপিউ বন্দরে ৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, বিশাল খনিজ সম্পদ, আর সমুদ্রপথে আধিপত্য—এসব নিয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারত সবাই এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে ড. ইউনুস চীনে গিয়ে বলেছেন, ‘এই অঞ্চলের সমুদ্রের একক অভিভাবক বাংলাদেশ’। কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন—আমাকে ক্ষমতায় রাখলে তোমাদের আধিপত্য নিশ্চিত করবো। এ প্রস্তাব তিনি ��ুধু চীন নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও দিয়েছেন।
এই ভূরাজনৈতিক খেলা আমাদের দেশকে চারটি পরাশক্তির প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে যাচ্ছে—যেখানে আমাদের মাটি ব্যবহৃত হবে, আমাদের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে, কিন্তু লাভবান হবে কেবল বাইরের শক্তিগুলো।
আজ যদি আমরা এই বাস্তবতা না বুঝি, প্রতিরোধ গড়ে না তুলি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ হতে পারে গাজা, আফগানিস্তান বা সিরিয়ার মতো���ধ্বংস, বিভক্তি, এবং দাসত্ব।
সিদ্ধান্ত আমাদের—গণবিপ্লব, না নিঃশব্দ দাসত্ব।
——————
বিশ্বাস করেন ভাইয়েরা।
প্রেথ্যম দেইখ্যা ভাবছি পেঙ্গুইন।
তবে ভালোমতো পর্যবেক্ষ�� করে বুঝবার পারলুম আস�� কাহিনী।
ও মোর খোদা এতো দেহি এক একটা জান্নাতের হুরের সরদারনি।