পঞ্চগড়ের হাফিজাবাদ ইউনিয়নে এক দোকানে সারজিস আলম হাত মিলাতে গেলে হাত না মিলিয়ে ৫ আগষ্টের জন্য প্রতিবাদ করে।
পরে সারজিস দোকানদারকে হু'মকি দিলো শেখ হাসিনার পক্ষে কিছু বললে দেখে নিবে ।
তারপরেও দোকানদারকে ভয় দেখাতে পারলো না।
এই তেঁতুলের বিচিকে ছে চে দেওয়া উচিত 😡🔪
বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ ফাঁস করে দিলেন ভোটার বিহীন নির্বাচনে কিভাবে রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে!
পুরো নির্বাচনটাই হয়েছে সাজানো। সরকারি দল এবং বিরোধীদল যেখানে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। দেশের বেশীরভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রেই যায়নি। অথচ আগে থেকে লিস্ট করে রাখা প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। কোন দল কয়টি আসন পাবে, কোন আসন পাবে সবই মেটিক্যুলাসলি ডিজাইন করা ছিল যা এখন মুখ ফসকে হলেও বিএনপি-জামাতের নেতাদের স্বীকারোক্তিতে আরও স্পষ্ট।
আওয়ামী লীগ তো দূরের কথা, চৌদ্দ গোষ্ঠীর ক্ষমতা হবে না আমাদের প্রসিকিউশন টিমকে টাকা দিয়ে, সম্পদ দিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে কিনে নেওয়ার। ইনশাআল্লাহ, এমন শক্তি পৃথিবীর কেউই দেখাতে পারবে না— বলেছিলেন জামায়াতে ইসলামী’র তাজুল ইসলাম।
অন্যদিকে, ১ কোটি টাকা ঘুষ সংক্রান্ত অডিও ফাঁসের কারণে পুরো বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কিনা - সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইসিটি’র চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আগের ও বর্তমানের যেসব মামলার বিষয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ উঠেছে, সেসবের সবগুলোতেই পুনরায় তদন্ত করা হবে।
এটা নিছক এক রাজনৈতিক ভাষণ ছিলনা। ছিল জনসমুদ্রের বুকে নেমে আসা এক বজ্রধ্বনি, এক মহাকাব্যের প্রথম পঙক্তি, যার আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল কোটি হৃদয়ের অন্তঃস্থলে। একটি তর্জনীর এমন সম্মোহন, এমন অদম্য শক্তি - পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগে কেউ দেখেনি। ইতিহাস কেবল ঘটনার সারি নয়। এটি মানুষের আত্ম অনুসন্ধানের দীর্ঘ যাত্রা। একটি জাতি যখন নিজেকে চিনে ফেলে, যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহস অর্জন করে, যখন ভয়কে অতিক্রম করে স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার শপথ নেয় - কেবল তখনই এমন ইতিহাসের জন্ম হয়! ১৯৭১ সালের মার্চ ছিল তেমনই এক অগ্নিঝরা সময় - যেখানে বাতাসও বিপ্লবের ভাষায় কথা বলত, প্রতিটি দিন হয়ে উঠত নতুন এক শপথের দিন। সেই মার্চে বাঙালি বুঝে যায়, ফিরে যাওয়ার পথ আর নেই। ৭ই মার্চের রেসকোর্সে জাতি দাঁড়িয়ে থাকে নিঃশ্বাস বন্ধ করে, আর বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়:
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এই উচ্চারণে জেগে ওঠে জাতির সুপ্ত সত্তা, জ্বলে ওঠে স্বাধীনতার অগ্নিশিখা। অগ্নিঝরা মার্চ তাই কেবল অতীতের স্মৃতি নয়। এটি এক চলমান দর্শন, এক নৈতিক আলোকবর্তিকা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় - রাষ্ট্র তখনই অর্থবহ, যখন তা ধারণ করে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার। স্বাধীনতা কোনো সমাপ্তি নয়। এটি এক অনন্ত দায়িত্ব, যা প্রতিটি প্রজন্মকে নতুন করে রক্ষা করতে হয়।
@NaomiNoor1510@sanjibdeb2016@Arafath023@akashofficial40@Bangla71Desh@FaruqAbdullah4@minto6971@crack1971@kz10978@ArifinMollah@Observatio74043@CyberGroupBD @EastBengalHind @AhmedFaisalbabu@Tomalika2016@BrittoAzure@SarwarWassel@dipanwitarumi@VibeBangla@HMSaifullah71
#বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন। বঙ্গবন্ধু একটি দেশ, একটি মানচিত্র, একটি জাতি নির্মাণের কারিগর, একটি বিপ্লব, একটি অভ্যুত্থাণ, একটি ইতিহাস, বাঙ্গালি জাতির ধ্রুবতারা, জনগনের বন্ধু, রাষ্ট্রের স্থপতি, স্বাধীনতার প্রতীক, ইতিহাসের মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালিI
#Bangladesh 🇧🇩
সত্য কখনো চাপা থাকে না। আবারও জুলাইয়ের ষড়যন্ত্র উন্মোচন করলেন সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত। কেন তাঁকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, শুনুন..
তিনি তখন দায়িত্বে থাকলে ৭.৬২ “গুলির” ঘটনা জাতির সামনে উন্মোচিত হয়ে যেত।
কারাগারে মৃত্যু, কলেজ মাঠেও দেওয়া হয়নি জানাজার অনুমতি।
বাড়ির প্রাঙ্গণেই পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম খানের জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে…
ইউনুস-জামায়াত সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে। দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ আসছে তাতে মনে হচ্ছে, অভিযোগের রেকর্ড হবে।
😈প্রধান উপদেষ্টাঃ
ইউনুসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের। গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ড. ইউনূস কীভাবে নিজের নামে একটি ট্রাস্ট করে গ্রামীণ কল্যাণ এবং গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ করছেন, তার বিবরণ তুলে ধরেছেন। এই অভিযোগে বলা হয়েছে, আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের জন্য ড. ইউনূস তাঁর নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন। এই ট্রাস্টের একমাত্র কাজ হলো, ড. ইউনূসের পরিবারের দেখাশোনা করা। এ ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও একাধিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
😈আইন উপদেষ্টা
ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন এবং অন্যান্য দুর্নীতি। একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, আসিফ নজরুল জামিন বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও, জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই এবং বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। পিবিআই মামলা তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পায়। আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকা নিয়ে ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিন আসিফ নজরুল বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত তথ্যও অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে আসিফ নজরুল ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রার পদায়নে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আসিফ নজরুল উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, সাভারের মতো লাভজনক এলাকার সাব রেজিস্ট্রার বদলি করেন। এসব বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
😈পরিবেশ উপদেষ্টা
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ অন্যতম। এ ছাড়াও রিজওয়ানার বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি জোর করে দখল করার অভিযোগও করা হয়েছে। একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। রিজওয়ানার স্বামী আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন কি না তা তদন্ত করার জন্য দুদককে অনুরোধ জানিয়েছেন একজন।
😈জ্বালানি উপদেষ্টা
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে সামিট গ্রুপের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
😈স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।
😈ছাত্র উপদেষ্টা-১
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগই ভুক্তভোগীরা নাম-ঠিকানাসহ করেছেন। ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণও দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।
😈ছাত্র উপদেষ্টা-২
মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন একজন। এভাবে প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের সূত্রগুলো বলেছে, এসব অভিযোগ তারা যাচাইবাছাই করছে। যেসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।
সূত্রঃ https://t.co/FcmIN6hmG3
@NaomiNoor1510@sanjibdeb2016@Arafath023@akashofficial40@Bangla71Desh@FaruqAbdullah4@minto6971@crack1971@kz10978@ArifinMollah@Observatio74043@CyberGroupBD @EastBengalHind @AhmedFaisalbabu@Tomalika2016@BrittoAzure@SarwarWassel@dipanwitarumi@VibeBangla
ইউনূসের সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মহাদুর্নীতি ফাঁস - বিটিসিএল এর 5G প্রকল্পকে ঘিরে বিগত অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার অজুহাতে সেই ব্যয় বাড়িয়ে ৩২৬ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। বুয়েটের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ২৬ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথের চাহিদা নির্ধারণ করা হলেও, কৌশলে ১২৬ টেরাবাইট সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয় - যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বিষয়টি নিয়ে অনিয়মের গন্ধ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করলে প্রকল্পের কাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, দুদকের অনুসন্ধান ঠেকাতে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব সরাসরি দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন। শুধু তাই নয়, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিসিএলের এমডির ওপরও চাপ প্রয়োগ করা হয়। অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চীন সফর করেন, যার ব্যয় বহন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান Huawei সংশ্লিষ্ট একটি অঙ্গসংগঠন। দুদকের তদন্ত চলাকালেই ফ্যাক্টরি টেস্ট ছাড়াই চীন থেকে যন্ত্রপাতি আনা হয়। এরপর সেই যন্ত্রপাতির মূল্য বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা Huawei কে পরিশোধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারের ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে ব্যাংক ম্যানেজার একাধিকবার দুদকের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে রহস্যজনক কারণে দুদকের তদন্তও বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
টানা ৫৫৯ দিনের শাসন শেষে বিদায় নিয়েছে ইউনূস–জামায়াতের অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই দীর্ঘ সময়ে সচিবালয় থেকে তৃণমূল প্রশাসন পর্যন্ত সর্বত্র বিরাজ করেছে নজিরবিহীন অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভ। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রশাসনে এমন ‘হযবরল’ পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।
চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া ও ‘মব কালচার’
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে দলীয় তকমা লাগিয়ে বিভাজন তীব্র করা হয়। সচিবালয়ে প্রকাশ্যে কর্মকর্তাদের হেনস্তা, অপমান, এমনকি জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটে। মব তৈরি করে ডিসি, ইউএনও ও বিভাগীয় কমিশনারদের সরিয়ে দেওয়ার নজির তৈরি হয়। পদ-পদবির দাবিতে সচিবালয় থেকে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত দফতর বন্ধ রেখে আন্দোলন হয়েছে। ডিসি নিয়োগ ঘিরে উপসচিবদের মধ্যে হাতাহাতির মতো ঘটনাও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ হয়ে আছে।
দাবি-দাওয়া ও উপদেষ্টাদের অবরুদ্ধকরণ
মহার্ঘ ভাতা ও নতুন পে-স্কেলের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন পুরো সময়জুড়ে চলেছে। একপর্যায়ে অর্থ উপদেষ্টাকে তার দফতরে মধ্যরাত পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়; পরে পুলিশি পাহারায় তিনি বের হতে সক্ষম হন। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের খসড়া সুপারিশ এবং বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রশাসনের অস্থিরতাকে আরও উসকে দেয়।
সংস্কার কমিশন ও ক্যাডার বৈষম্য
সংস্কারের নামে প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো প্রশাসনে গতি আনার বদলে বিভ্রান্তি ও বিরোধ বাড়ায়।
‘ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার’—এই স্লোগানে আন্তঃক্যাডার দ্বন্দ্ব প্রকট হয়। বিসিএস (পরিসংখ্যান) ক্যাডার বিলুপ্তির প্রস্তাব এবং বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের তিন গ্রুপ একীভূত করার সুপারিশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন।
পেনশনভোগীরাও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৩০% মহার্ঘ ভাতা না মেলায় মাঠ প্রশাসনে স্থবিরতা নেমে আসে।
পদোন্নতি বঞ্চনা ও নিয়োগ বাতিল
১৮ মাসে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা, পদোন্নতি জট ও একের পর এক নিয়োগ বাতিলের ঘটনায় অস্থিরতা চরমে ওঠে। সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত সেই বিশৃঙ্খলা বহাল থাকে। বর্তমানে অন্তত এক হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি না পেয়ে হতাশায় রয়েছেন। যুগ্ম সচিব পদে ২৪তম ব্যাচের ৩৩৭ জন ও লেফট আউট ৪৩ জনসহ মোট ৫৭৪ জন অপেক্ষমাণ। উপসচিব পদে ৩০তম ব্যাচসহ বিভিন্ন ক্যাডারের ৫৪২ জনের পদোন্নতি ঝুলে আছে।
এই বঞ্চিত কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিন জনপ্রশাসন সচিবের দফতর ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি: নতুন ক্ষোভ
কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দিয়ে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭৬৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দেওয়া হয়। এতে কর্মরতদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। সচিবালয়ের অনেকেই একে চরম রকমের 'বৈষম্য' বলে উল্লেখ করেন।
শীর্ষ পদে রদবদল ও নিয়োগ নাটক
সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার প্রতিফলন দেখা যায় একের পর এক নিয়োগ দিয়ে তা বাতিল করার ঘটনায়। ডিসি নিয়োগ ঘিরে কেলেঙ্কারি, পরে ৯ জনের নিয়োগ বাতিল। নৌ-সচিব ও খাদ্য সচিবের নিয়োগ কয়েক দিনের মধ্যেই বাতিল। পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ১০ দিনের মাথায় বাতিল। ২ জানুয়ারি নিয়োগ পাওয়া পিএসসির ৬ সদস্যের নিয়োগ ১৩ জানুয়ারিতেই বাতিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নাটকীয়তা
বিদায়লগ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ নিয়েও তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। বিদায়ী সচিব শেখ আব্দুর রশিদের পদত্যাগের পর তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন মূখ্য সচিব নিয়োগ পেলে তিনিও পদত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার শপথের ঠিক আগে নানা কারণে বিতর্কিত স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনিকে চুক্তিভিত্তিক মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'সরকার পরিচালনায় দক্ষ ও স্থিতিশীল প্রশাসন অপরিহার্য। ইউনূস সরকার শুরু থেকেই সে জায়গায় চরম ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে'
সূত্র: https://t.co/MuJMnZZYme